Wednesday , September 22 2021

বিসিএস ক্যাডার পরিচয়ে এক ডজন বিয়ে করলো তরুণী

শাহনুর রহমান সিক্ত নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি নাকি ৩৬তম বিসিএস ক্যাডার। পড়াশোনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। এসব পরিচয় দিয়ে ইতোমধ্যে ১২টি বিয়ে করেছেন তিনি। ভালো’ভাবে ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন। সাভা’রের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের(বিপিএটিসি) কোয়ার্টারে বড় হয়েছেন তিনি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস তার হাতের নাগালে। এ ক্যাম্পাসের আলো-বাতাস সবই পরিচিত তার। বিয়ে প্রতা’র’ণার ফাঁ’দে ফেলে হা’তিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। অথচ অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলে যাওয়া কথিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছা’ত্রীর পড়াশোনা মাত্র ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত।নিজের নামের সঙ্গে শাহনুর আকতার নামে একজন বিসিএস ক্যাডারের নামের মিল থাকায় ওই পরিচয় দিয়ে বেড়াচ্ছেন শাহনুর রহমান সিক্ত। বাস্তবে একজন প্র’তার’ক তিনি।

সি’ক্ত পরিচয় দিয়ে বেড়ান তার মা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ও সাভা’রের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) ট্রেনিং ডিরেক্টর। তার ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও বিপিএটিসির ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর। বড় বোন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনি বিভাগের অধ্যাপক।দুলা ভাই প্রকৌশলী, একমাত্র চাচা সে’নাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং মামা একজন মন্ত্রী। নিজেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ৩৮তম ব্যাচের ছা’ত্রী দাবি করেন তিনি। এমন পরিচয় দিয়ে শাহনুর রহমান সিক্ত ১২ জন ব্যক্তিকে প্রে’মে’র জা’লে ফাঁ’সিয়ে’ছেন। এমনকি বিয়েও করেছেন।

শুধু তাই নয়, স্বামীর পরিচিত ব্যক্তিদের চাকরি দেয়ার প্র’লো’ভ’ন ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেয়ার নাম করে মোটা অংকের অর্থ হা’তিয়ে নিয়েছেন। অথচ সিক্ত পড়াশো

না করেছেন পঞ্চ’ম শ্রেণি পর্যন্ত।জানা যায়, শাহনুর রহমান সিক্তর বাবা বিপিএটিসির একজন গাড়িচালক ছিলেন। বাবার অ’কাল মৃ’ত্যু’র পর মা বিপিএটিসিতে আয়ার চাকরি পান। সিক্ত তার মায়ের সঙ্গে বিপিএটিসির কর্মচারী কোয়ার্টারে বড় হন। বিসিএস ক্যাডারদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ এখানেই হয়। এই সুযোগে প্রথম শ্রেণির সরকারি চাকরির পদ, পদম’র্যাদাসহ বিভিন্ন বিষয় আয়ত্ত করেন সিক্ত। বিপিএটিসির কাছেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সিক্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আচা’র-আ’চর’ণের বিভিন্ন বিষয় সহ’জেই আয়ত্ত করেন।

ক্যাম্পাসের শিক্ষক-কর্মক’র্তা ও কর্মচারীরদের স’ম্প’র্কেও অনেক তথ্য আয়’ত্ত করেন। এমনকি ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত শিক্ষার্থীর মতোই পরিচিত হয়ে ওঠেন। ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩-৪ হাজার ‘মিউচুয়াল ফ্রেন্ড’ গড়ে তোলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের রি-ইউনিয়নে অংশগ্রহণ শুরু করেন সিক্ত। এরই মধ্যে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থা’নায় দায়ের করা একটি প্র’তার’ণার মাম’লা’য় গত ২ ফেব্রুয়ারি সিক্তকে গ্রে’ফতা’র করে পু’লিশ। ওই মা’ম’লার বা’দী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ওই না’রীর কথিত স্বামী। এরপর পু’লিশের তদ’ন্তে বে’রিয়ে আসে এই না’রীর ভ’য়ঙ্কর সব প্র’তার’ণা’র গল্প। উত্তরা পশ্চিম থা’নার মা’ম’লায় এখন এই না’রী কা’রাগারে।

শাহনুর রহমান সিক্ত ছাড়াও ওই না’রী সিক্ত খন্দকার, তাহামিনা আক্তার পলি ও তামিমা আক্তার পলি বলে নিজেকে পরিচয় দিতেন। ৩৬তম বিসিএস ক্যাডার শাহনুর আক্তারের নামের সঙ্গে প্র’তা’রক সি’ক্তর না’মের মিল রয়েছে। ফলে সিক্ত বিসিএস ক্যাডার শাহনুরের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিচ্ছিলেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১০-১২ বছর ধরে একই ধরনের প্র’তার’ণা করেছেন সিক্ত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই শিক্ষার্থী ছাড়াও অন্তত ১০ জনকে প্রে’মের ফাঁ’দে ফেলে বিয়ে করে সর্বস্ব হা’তিয়ে নিয়েছেন।

তার পরিবারের সদস্যরা প্র’তার’ণার কাজে তাকে সহায়তা করতেন। প্র’তার’ণার মাম’লায় সিক্তর দুলা ভাই আফতাব উদ্দিনকেও গ্রে’ফ’তার করে পু’লিশ। এভাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীকে প্রে’মের ফাঁ’দে ফেলে প্রথমে বিয়ে করেন। পরে স্বামীর আত্মীয়-স্বজনদের চাকরি দেয়ার নাম করে সাত লাখ টাকা ও ১০ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার হা’তিয়ে নেন। এক স্বজনকে ক্যাডেট কলেজে ভর্তির নাম করে হাতিয়ে নেন মোটা অং’কের অর্থ।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থীকেও প্রে’মের ফাঁ’দে ফে’লে প্রথমে বিয়ে করেন। পরে তার সর্বস্ব হা’তিয়ে নিয়ে কে’টে প’ড়েন সিক্ত। বিষয়টি নিশ্চিত করে পু’লি’শের উত্তরা বিভাগের ডিসি নাবিদ কা’মাল শৈবাল জানিয়েছেন, একটি প্র’তার’ণা’র মা’মলা’য় সিক্ত নামের ওই না’রীকে গ্রে’ফ’তার করা হয়।

প্রাথমিক তদ’ন্তে মনে হয়েছে তিনি একজন প্র’তার’ক। মাম’লার তদ’ন্ত এখনো চলছে। তার স’ম্প’র্কে এরই মধ্যে অনেক তথ্য জানা গেছে। বিয়ের ফাঁ’দে ফেলে অন্তত ১২ জনের সঙ্গে প্র’তার’ণা করেছেন এই না’রী। এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভা’রপ্রাপ্ত প্রক্টর আ. স. ম. ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, এই না’রীর মতো কোনো জা’লি’য়া’তি চ’ক্রের হাতে কেউ যাতে না পড়ে সেজন্য সবার সত’র্ক থাকা উচিত। এমন জা’লিয়া’তি’র কোনো তথ্য যদি কারও কাছে থাকে, সবার কাছে অনুরো’ধ তারা যেন দ্রুত আমাদের বিষয়টি জানায়। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের বি’রু’দ্ধে ব্যবস্থা নেবে।