ঈদের দিন বিশ্বনবী (সাঃ) যেগুলো কাজ করতেন

একমাস রোজা রাখার পর আগামীকাল শুক্রবার (১৪ মে) দেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ‘ঈদুল ফিতর’ শব্দ দুটি আরবি, যার অর্থ হচ্ছে উৎসব, আনন্দ, খুশি, রোজা ভেঙ্গে ফেলা ইত্যাদি।

শাওয়াল মাসের চাঁদের আগমনে রোজা ভেঙ্গে আল্লাহর বিশেষ শুকরিয়া স্বরূপ যে আনন্দ-উৎসব পালন করেন- শরিয়তের পরিভাষায় তাই ঈদুল ফিতর। ঈদের দিন নবী করিম (সা.) ছয়টি কাজ করতেন। চলুন জেনে নেয়া যাক সেগুলো-

তাকবীর পাঠ করা
রমজান মাসের শেষ দিন সূর্যাস্তের পর অর্থাৎ ঈদের রাত থেকে শুরু করে ঈদের ছালাত আদায় পর্যন্ত তাকবীর পাঠ করা। তাকবীরের শব্দসমূহ হচ্ছে, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকাবার লাইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হাম’দ। পুরুষের জন্য উচ্চঃস্বরে তাকবীর বলা সুন্নাত। না’রীরা নিঃশব্দে তাকবীর বলবেন। মু’সান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ২য় খন্ড, পৃ. ১৬৫।

সাজগোজ করা
পুরুষের জন্য সুন্নাত হলো গোসল করে, সুন্দর পোশাক পরিধান করে, সুগন্ধি মেখে, সুসজ্জিত হয়ে ঈদগাহ অ’ভিমুখে রওয়ানা হওয়া। না’রীরা নিজেদের মহলে সুসজ্জিত হয়ে, সুগন্ধি মেখে আনন্দ-উৎসব করবেন।

খেজুর খাওয়া
নামাজের জন্য ঈদগাহের দিকে রওয়ানা হওয়ার পূর্বে ৩টি, ৫টি এরকম বেজোড় সংখ্যক খেজুর খাওয়া সুন্নাত। হ’জরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বর্ণনা করেন, প্রিয় নবী (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন সকালে বেজোড় সংখ্যক খেজুর খেতেন। আদ-দুরূসুর রামাদানিয়াহ, পৃ. ১৮৫।

ঈদগাহে গমন
ঈদের মাঠে পায়ে হেঁটে যাওয়া এবং ভিন্ন পথে ফিরে আসা সুন্নাত। হ’জরত জাবির (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী (সা.) ঈদের দিন এক পথে ঈদগাহে যেতেন, অন্য পথে বাড়ি ফিরতেন। ফিতনার আশ’ঙ্কা না থাকলে মা-বোনদেরও ঈদগাহে যাওয়া উত্তম। ফিকহে মানহাজী, ১ম খন্ড, পৃ. ২২৮।

সদকাতুল ফিতর আদায়
ঈদুল ফিতরের দিনে অন্যতম প্রধান করণীয় হচ্ছে, ফিতরা প্রদান করা। নর-না’রী, ছোট-বড়, স্বাধীন-গো’লাম সবার ওপর ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। বুখারি ও মু’সলিম।

ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা
এ দিন মেহমানদারী করা, দান সদাকা করা। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা উত্তম। হ’জরত যুবায়ের ইবনে নুফায়র হতে বর্ণিত রাসুল (সা.) এর সাহাবীগণ যখন ঈদের দিনে দেখা করতেন তখন একে অ’পরকে বলতেন, ‘তাকাব্বাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা।’ ফাতহুল বারী ২ য় খন্ড, পৃ. ৪৪৬।