ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন কোরিয়ান অভিনেত্রী আয়ানা মুন

ইসলাম একটি একেশ্বরবাদী এবং ইব্রাহিমীয় ধর্মবিশ্বাস যার মূল শিক্ষা হল, এক আল্লাহ ছাড়া আর কোন স্রষ্টা নেই এবং মুহাম্মদ হলেন আল্লাহর প্রেরিত সর্বশেষ ও চূড়ান্ত নবি ও রাসূল। এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল প্রধান ধর্ম, যার অনুসারী সংখ্যা ১.৯ বিলিয়ন এবং পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ২৪.৪%, যারা মুসলমান নামে পরিচিত। মুসলমানরা ৫০ এর অধিক দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসমষ্টি। ইসলাম শিক্ষা দেয় যে আল্লাহ দয়ালু, করুনাময়, এক ও অদ্বিতীয় এবং একমাত্র ইবাদতযোগ্য অভিভাবক।

আধুনিক বিশ্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের অন্যতম হলেন কোরিয়ান অভিনেত্রী আয়ানা মুন। ২০১০ সালে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। অনেক বছর আগে ইসলাম গ্রহণ করলেও দীর্ঘ এক দশক পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায়।
মুসলিম নারীদের ফ্যাশন মডেল আয়ানা মুন ১৯৯৫ সালে কোরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। এর পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন মুসলিম অভিনেত্রী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরিবারের মধ্যে আয়ানাই প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। কৈশোর না পেরোতেই মুসলিম হিসেবে নতুন জীবন শুরু করতে পেরে তিনি মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তাঁর ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর ভাই আদিয়ান মুন ইসলাম গ্রহণ করেন।
ইনস্টাগ্রামে নিজের ইসলাম গ্রহণের গল্প বর্ণনা করেন আয়ানা। একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, মাত্র সাত-আট বছর বয়সে তিনি ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারেন। তখন ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তখন পর্যন্ত আমেরিকা সম্পর্কে জানা থাকলেও ইরাক সম্পর্কে জানাশোনা ছিল না। ওই সময় তিনি প্রথমবারের মতো ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পান। ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করে ইরাকের অবস্থান ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন। তখনই প্রথম ইরাকের বেশির ভাগ মানুষ ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করে বলে জানতে পারেন।
আয়ানা জানতে পারেন যে ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম। ইসলাম মানুষকে সুন্দর জীবন গঠনের নির্দেশনা দেয়। এ ছাড়া অনুসন্ধানকালে হিজাবি নারীদের অনেক ছবি দেখতে পান। নারীরা নিজেদের মুখ ঢেকে রাখছে দেখে তিনি কিছুটা বিস্মিত হন। অবশ্য তার দাদা তখন তার সঙ্গে ইসলাম ও হিজাব নিয়ে আলোচনা করেন। প্রথম দিকে হিজাবের বিষয়টি তাঁর কাছে অযৌক্তিক মনে হয়।
এর পর থেকে নারীর মুখ ও সৌন্দর্য ঢেকে রাখার মূল কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেন। ইসলাম সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে তাঁর মত পরিবর্তন করেন এবং ইসলামী জীবনাচারে মুগ্ধ হন। তখনই তিনি ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেন। এর পর থেকে তাঁর পরিচিত বিভিন্ন সেলিব্রিটি ও ব্যক্তির সঙ্গে ইসলাম সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান শেয়ার করেন। তখন তিনি ইসলামের জীবনবিধান ও অন্যান্য বিষয় জানার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন।