টিকাকেন্দ্রের ভিড় থেকে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা

টিকাকেন্দ্রগুলোতে ভিড় কমানো না গেলে শুরু হতে পারে করোনার তৃতীয় ঢেউ – এমনটাই মনে করছেন ব্রিটিশ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এ অবস্থায় গণহারে টিকা না দিয়ে শুধুমাত্র যারা করোনা ঝুঁকিতে রয়েছেন তাদের টিকা দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এছাড়া দুর্বল আর বয়স্কদের জন্য পৃথক কক্ষের ব্যবস্থা থাকা উচিত বলেও মত বিশষেজ্ঞদের।

সারাবিশ্বে ব্যাপক হারে চলছে করোনার টিকা কার্যক্রম। কোন দেশ সবচেয়ে দ্রুত নাগরিকদের সবাইকে এ কার্যক্রমের আওতায় আনতে পারবে, চলছে তারই প্রতিযোগিতা। সরকারিভাবে জানানো হচ্ছে, টিকা কর্মসূচি এগিয়ে নেয়ায় সাফল্যের কথা।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয়ে অনেকেই অনীহা দেখালেও টিকা গ্রহণে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করছেন জনপ্রতিনিধি আর তারকারা। প্রকাশ্যে করোনার টিকা নিয়ে আহ্বান জানাচ্ছেন টিকাকেন্দ্রে যেতে।

কিন্তু এই এবার টিকা নিতে গিয়েই নতুন করে মহামারি ছড়িয়ে পড়তে পারে, আর এভাবেই বিশ্বব্যাপী করোনার তৃতীয় দফার ঢেউ শুরু হতে পারে মনে করছেন ব্রিটিশ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সেন্টারের ব্যবস্থাপনা সমন্বয়ক জ্যাকি করবেট মেড জানান কিভাবে টিকাকেন্দ্রগুলো স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে সে কথা।

তিনি বলেন, ভ্যাকসিনেশন সেন্টার বা টিকাকেন্দ্রগুলোতে যত দূর সম্ভব ভিড় কমানো উচিত। বয়স্ক, দুর্বল, দীর্ঘদিন ধরে রোগাক্রান্ত বা রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা যাদের কম তাদের জন্য আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা রাখার ওপর জোর দেন তিনি। সম্ভব হলে তাদের জন্য ঘরেই টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করা দরকার।

যুক্তরাজ্যে এরই মধ্যে দেড়কোটি মানুষের দেহে করোনার টিকার প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ। বাকিদেরও ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে ব্রিটিশ সরকারের।

তবে গণহারে দেশের সব মানুষকে ভ্যাকসিন না দিয়ে কাদের এটি জন্য টিকা গ্রহণ বেশি জরুরি তা বিবেচনা করেই টিকা তা প্রয়োগ বা গ্রহণের পরামর্শ দেন জ্যাকি করবেট মেড।

জ্যাকি করবেট মেড জানান, প্রথমেই গুরুত্ব দিতে হবে বয়স্কদের। দীর্ঘদিন ধরে যারা বিভিন্ন রোগে ভুগছেন তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, আবার চিকিৎসা সেবার সাথে যুক্ত পেশাজীবী প্রতিটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া অত্যন্ত জরুরি।

পরিকল্পনা ছাড়া ভ্যাকসিন কার্যক্রম টিকাকেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়াবে। এভাবে নতুন করে মহামারি ছড়িয়ে পড়তে পারে। এখনই সচেতন না হলে এভাবেই আসতে পারে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ।

সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই জানিয়ে সারাবিশ্বের সব টিকাদান কেন্দ্রে সচেতনতা মেনে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুপারিশ করেন জ্যাকি করবেট মেড।