নারী সেজে পুরুষের সঙ্গে প্রেম করেন ইমরান, এটাই পেশা

সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ফেসবুক সম্পর্কেব্যবহারকারীদের ভিন্ন মত আছে। কেউ মনে করেন, এটি যোগাযোগের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম; কারও মতে, এর কারণে সময় নষ্ট হয়। এই বিতর্কে অংশ নিয়েছেন অধুনার পাঠকেরা। যদিও ফেসবুকের পক্ষেই মত বেশি। তবে বিপক্ষেও মত আছে।

নতুন খবর হচ্ছে, প্রথমে নারীদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া আইডি খুলতেন ইমরান। এরপর সুন্দর সুন্দর ছবি দিয়ে আকৃষ্ট করতেন পুরুদের। কথাবার্তা বলে তৈরি করতেন বন্ধুত্ব। আর নিজেকে দাবি করতেন, আমেরিকান প্রবাসী। এভাবে অনেক পুরুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল অর্থ।

ইমরানের ফাঁদে পা দিয়ে পৌনে ৫ লাখ টাকা দিয়েছেন সিলেটের বিয়ানীবাজারের সুলতান নামের এক যুবক। বুধবার রাতে প্রতারণার শিকার ওই যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতে ইমরানকে তার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইমরান সিলেট নগরীর শেখঘাট এলাকার মৃত ইকবাল আহমদের ছেলে।

জানা যায়, দীর্ঘ কয়েক মাস প্রেম করার পর আমেরিকায় নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ানীবাজারের যুবক সুলতানের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় প্রায় পৌনে ৫ লাখ টাকা। হঠাৎ করে যোগযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত যুবকের সন্দেহ হয়। এ বিষয়ে তিনি ২৩ জুলাই বিয়ানীবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

পুলিশ জানায়, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ নিশ্চিত হয় কথিত প্রেমিকা আসলে একজন পুরুষ। তিনি সিলেটের শেখঘাট এলাকায় বসবাস করেন। বুধবার বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানা পুলিশের সহযোগিতায় নগরীর শেখঘাট এলাকার জিতু মিয়া জমিদার বাড়ির বাসা থেকে তাকে রাত ৮টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সাধারণ ডায়েরি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতারক ইমরান আহমদ আমেরিকান তরুণী ‘নাজহা আক্তার ছাভা’ নাম ধরে যুবক সুলতান আহমদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ফেসবুক থেকে পরিচয়ের পর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের মাধ্যমে উভয়ের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠে। নারী কণ্ঠের মাধুর্য দিয়ে যুবক সুলতান আহমদকে প্রেমের ফাদে ফেলে বিকাশ এর মাধ্যমে প্রতারণা শুরু করেন প্রতারক ইমরান আহমদ।

ভিকটিম সুলতানকে বিয়ে করে আমেরিকা নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে হাতিয়ে নেয় চার লাখ ৬০ হাজার টাকা। বিভিন্ন সময়ে বিকাশের মাধ্যমে নেওয়া টাকা আমেরিকা নেওয়ার প্রক্রিয়া ব্যয় হচ্ছে বলে সুলতানকে জানানো হয়। ঈদুল আযহায় প্রতারক ইমরানের সঙ্গে আলাপে সন্দেহ হয় ভিকটিম সুলতান আহমদের। তিনি বিয়ানীবাজার থানায় সাধারণ ডায়রি করেন।

বিয়ানীবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুমেন বলেন, প্রতারক ইমরান আহমদ প্রকৃতিভাবে নারী কণ্ঠের। যার কারণে তিনি খুব সহজে যুবক সুলতানকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেয়। আমরা তার সাধারণ ডায়েরি ও মোবাইল নম্বর ধরে প্রযুক্তি সহায়তা তদন্ত নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করেছি। প্রতারক ইমরামের স্ত্রী সন্তান রয়েছে। এ ঘটনায় ভিকটিম থানায় মামলা দায়ের করেছেন।