বিবাহ সম্পন্ন, কিন্তু ২০২৪ সাল পর্যন্ত তারা স্বামী-স্ত্রী নয়!

কিশোরীকে বিবাহ করার অপরাধে বিয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় বরের দণ্ডাদেশও দেয়া হয়।

গত ২৮ জুলাই বুধবার দিবাগত গভীর রাতে সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের গাবতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নবদম্পতির সঙ্গে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার।
তালা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম তারেক সুলতানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে বর রুবেল হোসেনকে (২৪) ১০,০০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন।

তালা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার বলেন, উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের গাবতলা গ্রামের রজব আলী বাজনদারের ছেলে রুবেল হোসেন ৪ দিন আগে মনিরাপুর উপজেলার চালুয়াহাটি ইউনিয়নের গোপীকান্তপুর গ্রামের জলিল বিশ্বাসের মেয়ে রিংকী খাতুনকে (১৫) বিয়ে করেন।

অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে বিয়ে করার বিষয়টি জানার পর রুবলে হোসেনকে লিখিত নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশ পেয়ে রুবেল তার কিশোরী নববধূকে নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।

বুধবার রাতে টানা বর্ষণের সুযোগে রুবেল তার স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। তার ফেরার খবর পেয়ে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। রাত ১০টার দিকে রুবেলের বাড়িতে উপস্থিত হয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এসময় বিচারক এস. এম. তারেক সুলতানের নেতৃত্বে রুবেলের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে বর-বউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনে বর রুবেলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

এছাড়া, কিশোরী বধুকে তার পিতার কাছে ফেরৎ পাঠানোর জন্য ওই রাতেই তাকে স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এই বিয়ের উপর ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

বর রুবেল হোসেন বলেন, রাতে ধার কর্জ করে জরিমানার টাকা পরিশোধ করি। ফলে কারাদণ্ড থেকে এ যাত্রায় রক্ষা পাই।

আর বিয়ে-সাদী নিয়ে ২০২৪ সালের পর কথা বলব। কন্যা দায় উদ্ধার করতে যেয়ে নিজেই দায় ঠেকে গেছি।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার ও জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কমিটির সদস্য সাকিবুর রহমান।