এ’টিএম শামসুজ্জামানের মৃ’ত্যুতে ফে’স’বুক যেন শো’ক বই

৬ দশকের বর্ণাট্য ক্যারিয়ার এটিএম শামসুজ্জামানের। অভিনয় করেছেন অসংখ্য চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নাট;কে। শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মৃ;ত্যু;র সময় রেখে গেছেন অসংখ্য গুণগ্রাহী। তার মৃ;ত্যু;তে তার সহকর্মীদের ফেসবুক ওয়াল হয়ে উঠেছে শোক বই।

চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে অনেক জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেছেন এটিএম শামসুজ্জামান। চঞ্চল লিখেন, ‘শেষ পর্যন্ত সত্যটা হলো। এটিএম ভাই চলে গেলেন। আর হলো না দেখা। কত সময়, কত স্মৃতি। আবেগ তাড়িত হচ্ছি খুব। অপার শ্রদ্ধা। শান্তিতে থাকুন আপন মানুষ এ টি এম শামসুজ্জামান।’

আরিফিন শুভ খুব বেশি কিছু লিখতে পারেননি। তিনি শুধু বলেন, ‘শান্তিতে থাকবেন এটিএম চাচা।’‘এবার আর কোনো গুজব নয়! (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহি রাজিউন)’— লিখেন সিয়াম আহমেদ।

আশনা হাবিব ভাবনা লেখেন, “মনুষ্যত্বের মূলে আর একটি প্রকাণ্ড দ্বন্দ্ব আছে; তাকে বলা যেতে পারে প্রকৃতি এবং আত্মার দ্বন্দ্ব। স্বার্থের দিক এবং পরমার্থের দিক , বন্ধনের দিক এবং মুক্তির দিক , সীমার দিক এবং অনন্তের দিক– এই

দুইকে মিলিয়ে চলতে হবে মানুষকে’—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এটিএম আংকেল ভালো থাকুন। আপনার আদর সব-সময় পেয়েছি । শুটিংয়ের সময়গুলো মনে পড়ছে খুব।”

‘এ টি এম শামসুজ্জামান আংকেল কিছুক্ষন আগে সত্যি সত্যি আমাদের ছেড়ে চিরতরে চলে গেলেন! পরপারে ভালো থেকেন আংকেল, প্রার্থনা’—লেখেন নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী।

নন্দিত উপস্থাপক হানিফ সং;কে;ত এটিএম শামসুজ্জামানকে নিয়ে বিশাল এক স্ট্যাটাস দেন। তিনি লেখে;ন, ‘বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে ঝরে গেলো আরো একটি নক্ষত্র। সকলের প্রিয় অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। আমাদের এটিএম ভাই। বর্ণাঢ্য যার অভিনয় জীবন। বিভিন্ন শারী;রিক জ;টিল;তা নিয়ে দী;র্ঘ;দি;ন অসুস্থ ছিলেন। অবশেষে আজ সকালে

সূত্রাপুরে তার নিজস্ব বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। অত্যন্ত মেধাবী, প্রাণবন্ত, বিনয়ী, সহজ-সরল, সাদামাটা মানুষ ছিলেন এটিএম ভাই। ছিলেন একজন আদর্শ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। অসুস্থতার সময় নিয়মিত তার খোঁজ-খবর রাখতে চেষ্টা করতাম। হাসপাতালেও গিয়েছি। রুনী ভাবীর সঙ্গে নিয়মিত কথা হতো।

এটিএম ভাই ছিলেন ইত্যাদির বিশেষ অনুষ্ঠানগুলোর প্রায় নিয়মিত শিল্পী। এছাড়াও আমার অন্যান্য অনুষ্ঠান ও অনেকগুলো নাটকে তাকে নেয়ার সুযোগ হয়েছিলো। তাই কাছ থেকে দেখেছি, গভীরভাবে মেশার সুযোগ পেয়েছি। ছিলো আন্তরিক

সম্পর্ক। ইত্যাদির প্রতি তার একটা বিশেষ দুর্বলতাও ছিলো। আর সেজন্যই চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায়ও তিনি বার বার ইত্যাদির কথা স্মরণ করেছেন। হাসপাতালে দেখতে গেলে সুস্থ হয়ে আবারও ইত্যাদির ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। আর তাই প্রথম যখন কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন তখনই ভাবী আমাকে জানিয়েছিলেন এটিএম

ভাই ইত্যাদিতে অভিনয় করতে চান। যেহেতু আমরা আমাদের নিজস্ব শ্যুটিং স্পটে শ্যুটিং করি এবং এখানকার পরিবেশ, খাওয়া-দাওয়া সবকিছুতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তাই তার বিশ্বাস এখানে এসে অভিনয় করলে তার শারীরিক কোন

অসুবিধা হবে না। তাই এখান থেকেই তিনি আবার যাত্রা শুরু করতে চান। আরেকজন বর্ষীয়ান অভিনেতা জনাব মাসুদ আলী খানের সঙ্গে জুটি করে সেসময় ইত্যাদির জন্য ছোট্ট একটি নাট্যাংশ নির্মাণ করেছিলাম। যেটি পরবর্তীতে ইত্যাদিতে

প্রচারিত হয়। আর ইত্যাদিতে করা সেই অভিনয়টুকুই ছিলো এটিএম ভাইয়ের জীবনের শেষ অভিনয়। অনেক শিল্পীরই

বিকল্প তৈরি হয় কিংবা করা যায় কিন্তু এটিএম শামসুজ্জামানের কখনোই কোন বিকল্প ছিলো না, আর তৈরি হবে কিনা জানি না। তার প্রতিটি চরিত্রই ছিলো তার অভিনয় নৈপুণ্যে আলাদা বৈশিষ্ট্যের। এই মহান শিল্পীর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা তার মাগফিরাত কামনা করছি।’