তারেক রহমানের আয়ের উৎস জুয়া খেলা: মতিয়া চৌধুরী

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী এমপি বলেছেন, আমাদের বানানো কথা নয়, তারেক রহমান লিখিত জবানবন্দি দিয়ে বলেছেন, তার আয়ের উৎস জুয়া খেলা। তিনি লন্ডনে ক্যাসিনো চালিয়ে টাকা উপার্জন করেন। অথচ এরাই আবার ইসলামের জন্য কাইন্দা জারে জার হইয়া যায়।

বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শেরপুরে নিজ নির্বাচনী এলাকা নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নে দরিদ্রদের মধ্যে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। বিএনপি’র আন্দোলন সম্পর্কে মতিয়া চৌধুরী বলেন, যে দলের নেত্রী নিজেই স্বীকার করেন, এতিমের টাকা চুরি করেছেন। সেই দলের নেতারা বলেন চুরি করেন নাই।

তিনি আরো বলেন, ‘যার গরু সে কয় বাইনজা। আর বিএনপি বলে বছর বিয়াইন না।’ তাহলে প্রশ্ন উঠে খালেদা জিয়াকে ছেড়ে দিলে কি তারা আবার এতিমের টাকা, পাবলিকের টাকা মাইরা দেবে এজন্য আন্দোলন করছে বিএনপি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক ও উদার বলেই সাজা হওয়ার পরও বেগম জিয়া বাড়িতে আছেন মন্তব্য করে মতিয়া চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য কেউ হলে খালেদা জিয়াকে জেলেই থাকতে হতো। কাজেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিএনপি’র কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।

নয়াবিল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক, শেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাড. গোলাম কিবরিয়া বুলু, এসিল্যান্ড সঞ্চিতা দে সহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী আরো বলেন, বেগম জিয়াকে সরকার আটকিয়ে রাখেনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় উনার বক্তব্যের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। তিনি (বেগম খালেদা জিয়া) বলেছেন, ব্যাংক থেকে উনি বেআইনিভাবে এতিমদের টাকা উঠিয়েছেন, কাজেই এতে সরকারের কোনো দায় নেই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানার ছেলে-মেয়েদের হীরের টুকরো উল্লেখ করে মতিয়া চৌধুরী বলেন, লেখাপড়া আচার আচরণ, ভদ্রতা, নম্রতায় এদের ধার কাছেও কেউ নেই। পুতুল প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করে জাতিসংঘের দূত হয়েছেন। জয় তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। রেহানার ছেলে গবেষণা নিয়ে অসাধারণ কাজ করছেন। এরা স্বপ্নেও ভাবে না অনৈতিক কিছু করার।

প্রতিবছরের ন্যায় এদিন তার নিজ তহবিল থেকে নালিতাবাড়ী উপজেলার, রামচন্দ্রকুড়া, নালিতাবাড়ী ইউনিয়ন, নয়াবিল, পোড়াগাঁও, নন্নী, রাজনগর, কলসপাড়া ও নালিতাবাড়ী পৌরসভার তিন হাজার মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেন।