তরুনী মেয়েদের সাদা স্রাব কী, কেন হয় এবং প্রতিকারের উপায়

মেয়েদের এমন অনেক কথাই আছে, যা অনেক সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলেও ডাক্তার কে দেখাতে হবে ভেবে লুকিয়েই রাখা হয়। সাদা স্রাব বা লিউকোরিয়া তেমনি একটি বি’ষয়।

মেয়েদের জীবনের কোনো না কোনো সময় তাদের কে এই সমস্যায় পড়তেই হয়। তাই কিছুটা জেনে রাখু’ন এখনি। বলা যায় না কখন আপনার জীবনে, আপনার বোন, মেয়ে অথবা বান্ধবী কিংবা আত্মীয় স্বজনের কাজে লেগে যায়। আগে জানতে হবে স্বাভাবিক সাদা স্রাব দেখতে কেমন হয়।

সাদা স্রাব – হলুদ , সাদা পিচ্ছিল ও আঠালো রঙের নিঃসরণ, যা শুকালে হালকা বাদামি-হলুদ রঙের বর্ণ ধারণ করে। যে সব মেয়েরা বয়ঃসন্ধিকালের শুরুতে,

তাদের জন্য বলছি নিজের অজান্তে যদি কাপড়ে এমন দাগ পড়ে তবে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। এটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার জন্য হতে পারে। না’রীর রিপ্রোডাক্টিভ

এইজে (১৪-৫০) যো’নি দেয়াল পুরু থাকে। যো’নিতে এক ধরনের জী’বাণু থাকে, যা যো’নির জন্য স্বাভাবিক। সেটি যো’নি থেকে নি’য়মিত খসে পড়া কোষের গ্লাইকোজেন কে ল্যাকটিক এসিডে পরিণত করে। এটি যো’নিতে পিচ্ছিল ভাব আনে। পাশাপাশি এর অম্লতাও ঠিক রাখে। ক্ষ’তিকারক জী’বাণু থেকে প্রজনন অ’ঙ্গকে নিরাপদ রাখে।

কারণ গুলোঃ

০১. স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয়, বয়সন্ধিকালে র’ক্ত চলাচল বেড়ে যায় ফলে নিঃসরণ-ও বেশি হয়, যৌ’ন মি’লনকালে, যৌ’ন আবেগে, গ’র্ভাবস্থায়, শ’রীরের

রাসায়নিক সমতা বজায় রাখতে এবং যো’নির কোষ গুলোকে সচল রাখতে oestrogen হরমোনের প্রভাবে এটি নিঃসৃত হতে পারে, মেয়ে শি’শুর জ’ন্মের

প্রথম ৭-১০ দিনের মধ্যে এটি হতে পারে। মায়ের শ’রীরে যদি অত্যধিক হরমোন থাকে তবেও এটি হতে পারে।, স’ন্তান ডেলিভারির প্রথম কয়েকদিন-ও সাদা স্রাব বেশি হতে পারে, হ’স্তমৈ’থুন বা মাস্টারবেশন, অভু’লেশন ( ডিম্বাণু নিঃসরণ কালে ) জ’ন্ম বিরতিকরণ পিল ব্যবহার করলে। কাজেই প্রথমে ভ’য় না পেয়ে দেখু’ন ও বুঝে নিন আপনার সাদা স্রাব কি অত্যধিক কিনা বা স্বাভাবিক কিনা। তারপর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন।

০২. রো’গ সম্বন্ধীয়ঃ

– মা’নসিক অশান্তি

– পর্যা’প্ত বিশ্রাম ও পুষ্টির অভাব

– বিভিন্ন ধরনের ক্রিমির সং’ক্র’মণ

– অপরিচ্ছন্নতা এবং কাপড় সঠিক ভাবে না শুকিয়ে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে রাখলে

– ইনফেকশন – যক্ষা, ছত্রাক (candida)

– জ’ন্ম বিরতিকরণ পিল খাওয়া

– ব্যাকটেরিয়ার সং’ক্র’মণ

– পেটের নিম্নভাগের প্রদাহ

– STD (s’exually transmitted disease)

বয়ঃসন্ধির আগে এবং স্থায়ী ভাবে মাসিক বন্ধ হবার পরে নিঃসরণ বেড়ে যেতে পারে। কারণ এ সময় সং’ক্র’মণের আশংকা-ও বেশি থাকে। যদি স্রাবের সাথে র’ক্ত যায়, অথবা অতিরিক্ত নিঃসরণ হয় কিংবা অতি দুর্গন্ধ হয় তবে তা আশংকাজনক। বাচ্চা হওয়ার পর দুর্গন্ধ যুক্ত নিঃসরণ ( lochia ) এটাই নির্দেশ করে যে , জরায়ু তার গ’র্ভ ধারণের পূর্বাবস্থায় ফিরে যেতে পারেনি। ছত্রাকের সং’ক্র’মণ হলে সাদা দু’ধের ছানার মত নিঃসরণ যেতে পারে। পাশাপাশি চুলকানো ভাব থাকলে এটি আরও বেশি ছত্রাকের প্রতি নির্দেশ করে।

রো’গ নির্ণয়ঃ

– ওয়েট স্মিয়ার, গ্রাম স্টেইন, কালচার, প্যাপ স্মিয়ার, বায়োপসি

চিকিৎসাঃ

– যো’নি পথ এবং আশেপাশের পরিবেশ দুটোই পরিষ্কার রাখতে হবে যাতে সং’ক্র’মণ না হয়।

– নি’য়মিত শাক সবজি, ফল মূ’ল ও পর্যা’প্ত পানি খেতে হবে।

– পর্যা’প্ত পরিমাণে ঘুম এবং বিশ্রাম করতে হবে।

– জ’ন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ির কারণে হলে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বন্ধ রাখতে হবে।

– যৌ’না’ঙ্গের অভ্যন্তরীণ টিউমার থাকলে তার চিকিৎসা করতে হবে।

– ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া জনিত হলে সে অনুযায়ী পথ্য সেবন করতে হবে এবং আ’ক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে।

– কড়া রোদ অথবা ইস্ত্রির মাধ্যমে কাপড় শুকাতে হবে যাতে জী’বাণু বংশবৃ’দ্ধি করতে না পারে।

– যদি যৌ’ন বাহিত হয়ে থাকে তবে সুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত মি’লনে বিরত থাকতে হবে এবং যে কোনো ঔষধ-ই স্বা’মীকেও ব্যবহার করতে উৎসাহিত করতে হবে।

– র’ক্ত মিশ্রিত বা অতি দুর্গন্ধ যুক্ত হলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

সাস্থ্য ও চিকিৎসা বি’ষয়ে যে কোন প্রশ্ন থাকলে জানাতে পারেন !