রোজ নামাজে বসে দোয়া করে লুবাবা, কাঁদেন!

সীমরিন লুবাবা প্রখ্যাত মঞ্চ টেলিভিশন অভিনেতা আব্দুল কাদেরের নাতনী। দাদার অনুপ্রেরণায় খুব ছোট থেকেই লাইট ক্যামেরার দুনিয়ায় লুবাবা এবং শিশুশিল্পী হিসেবে পেয়েছে ব্যাপক পরিচিতি।

বি এম শাহীন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী লুবাবা। কেজিতে পড়ার সময় প্রথম শিশু শিল্পী হিসেবে মডেল হয় সে । এরপর তার ছুটে চলা অবিরাম। কিন্তু হঠাৎ করে একটি অপ্রাপ্তি, প্রিয় দাদাকে হাড়িয়ে পুরো পৃথিবী অন্ধকার তার।

এখন দাদা নেই তবে প্রতিদিন দাদার জন্য অশ্রু ঝরে লুবাবার।তবে দাদা যাতে পরম শান্তিতে নরম বিছানায় ঘুমায়, সে জন্য রোজ নামাজে বসে দোয়াও করে ছোট্ট লুবাবা। পড়াশুনা আর অভিনয় নিয়ে বেশ ব্যাস্ততম দিন পাড় করছে এবং সামনে বেশ কিছু কাজ ও রয়েছে তার হাতে।

মাত্র তিন বছরের কালে আবদুল কাদেরের সাথে অভিনয় শুরু করে ছোট্ট লুবাবা। তিনি লুবাবাকে বুঝিয়ে দিতেন কোন দৃশ্যতে কি ভাবে অভিনয় করতে হবে। এখন দাদা নেই তার তবে দাদার স্বপ্ন পূরণে বদ্ধপরিকল লুবাবার।

জনপ্রিয় অভিনেতা আব্দুল কাদির গতবছর ডিসেম্বরের ২৬ তারিক না ফেরার দেশে চলে যান। ১৯৫১ সালে মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ি থানার সোনারং গ্রামে অভিনেতা আবদুল কাদেরের জন্ম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর শেষ করার পর তিনি সিঙ্গাইর কলেজ ও লৌহজং কলেজে অধ্যাপনায় নিযুক্ত হন। পরে জুতা তৈরিকারক প্রতিষ্ঠান বাটায় যোগ দেন ১৯৭৯ সালে; সেখানে ছিলেন ৩৫ বছর।

তার অভিনীত মঞ্চনাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে– ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, ‘এখনও ক্রীতদাস’, ‘তোমরাই, স্পর্ধা’, ‘দুই বোন’, ‘মেরাজ ফকিরের মা’।

টিভিতে তিনি তিন হাজারের মতো নাটকে অভিনয় করেছেন। বিটিভির জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র নিয়মিত শিল্পী তিনি।

প্রয়াত কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের বহু জনপ্রিয় নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন কাদের। তিনি হুমায়ূন আহমদের ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে বদিভাই চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। ২০০৪ সালে আবদুল কাদের অভিনয় করেন ‘রং নাম্বার’ চলচ্চিত্রে।

দীর্ঘ অভিনয় জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে টেনাশিনাস পদক, মহানগরী সাংস্কৃতিক ফোরাম পদক, অগ্রগামী সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী পদক, জাদুকর পিসি সরকার পদক, টেলিভিশন দর্শক ফোরাম অ্যাওয়ার্ড, মহানগরী অ্যাওয়ার্ডসহ বেশ কিছু পদকও পেয়েছেন আবদুল কাদের।