কালের সাক্ষী ৩০০ বছরের তিন গম্বুজ মসজিদ

নরসিংদী সদরের পশ্চিমে পলাশ উপজেলার পারুলিয়া গ্রামে রয়েছে মোগল আমলের অপূর্ব নিদর্শন পারুলিয়া দেওয়ান শরিফ মসজিদ। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি এই জেলার প্রাচীনতম নিদর্শনের মধ্যে অন্যতম।

এর প্রবেশ দ্বারের ওপরে ফার্সি ভাষায় কবিতার ছন্দে লেখা আছে মসজিদ নির্মাণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। মসজিদের পাশেই রয়েছে ঈশা খাঁ’র পঞ্চম অধস্তন পুরুষ দেওয়ান শরীফ খাঁ ও তার স্ত্রী জয়নব বিবির যুগল মাজার।

১৭১৯ সালে বিবি জয়নব এই তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি নির্মাণ করেন। ইতিহাস থেকে জানা যায়, নরসিংদী সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে মহেশ্বরদী নামে পরিচিত ছিল।

১৭১৭ সালে সুবেদার মুর্শিদকুলি খাঁ বঙ্গদেশের সুবেদার নিযুক্ত হলে তার কন্যা জয়নব বিবির সঙ্গে মনোয়ার খাঁ এর পঞ্চম পুত্র শরিফ খাঁর বিয়ে দেন। জামাতাকে উপহার স্বরুপ এই মহেশ্বরদী পরগনার দেওয়ানী দান করেন। তখন থেকে তিনি দেওয়ান শরিফ খাঁ হিসেবে সমাধিক পরিচিতি লাভ করেন। তার নামে এলাকার নামকরণ হয় শরিফপুর। এই শরিফপুরেই ১৭১৯ সালে শরিফ খাঁ’র স্ত্রী জয়নব বিবি এই মসজিদটি নির্মাণ করেন।

কালের বির্বতনে শরিফপুর নামটি বিলুপ্ত হয়ে পারুলিয়া হলেও কালের সাক্ষী হিসেবে রয়ে গেছে ৩০০ বছরের প্রাচীন মোগল মসজিদটি। যা এখন পারুলিয়া দেওয়ান শরিফ মসজিদ হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। এক সময় ব্রহ্মপুত্র নদী দিয়ে বড় বড় পাল উড়িয়ে পালের নৌকা আসা যাওয়া করতো। তখন এলাকাবাসী পালের নৌকা দেখতে নদীর তীরে এবং নৌকায় নদী পারাপার হতো বলে এই এলাকার নামকরণ শরিফপুর থেকে পারুলিয়া হয়ে যায়।

একটি মাজার, একটি হুজুরখানা, ৪টি পুকুর তার আশপাশের প্রায় ২০ বিঘা জমি নিয়ে পারুলিয়া মসজিদটি অবস্থিত। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে মসজিদের ছাদে ফাটল দেখা দেয়, ধংস হয়ে যায় দেওয়ান সাহেবের কাচারি ঘর ও নায়েব সাহেবের ভবনটি।

পরবর্তীতে এই মসজিদটি বেশ কয়েক বার সংস্কার করা হয়। মসজিদের পশ্চিম পাশে এবং পুকুরের পূর্ব তীরে রয়েছে এক গম্বুজ বিশিষ্ট সমাধি সৌধ। এই সৌধের ভেতরে পাশাপাশি আছে জয়নব বিবি ও দেওয়ান শরিফ খাঁ’র কবর। ১১২৮ হিজরিতে দেওয়ান শরীফ খাঁ মারা যান। জয়নব বিবির শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী পরের বছর তিনি মারা গেলে স্বামীর পাশেই তাকে দাফন করা হয়। বর্তমানে এই সমাধি সৌধটি জয়নব বিবির মাজার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।