বিয়ের জন্য একাই ৫৬৫ কি.মি. পাড়ি দিলেন নারী আইপিএস অফিসার

বিহারের একজন আইপিএস অফিসার নভজোৎ সিমি। ২০২০ সালে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। বুদ্ধিমতি ও সুন্দরী দুটোই তিনি। অংকের কঠিন সব সমস্যা নিমেষে পরীক্ষা খাতায় সমাধান করে ফেলেন। শুধু অংকই বা কেন? ইংরেজি, ভূগোল, ইতিহাস, সংবিধান-প্রায় সব বিষয়েই তার জ্ঞান ঈর্ষণীয়।

আর শুধু বইয়ের পাতায় তার অবাধ বিচরণের পাশাপাশি নেটমাধ্যমের পাতাতেও পরিচিত মুখ নভজোৎ সিমি।

ইনস্টাগ্রামে তাকে দেখে যে কেউ বলিউড তারকা বলে ভুল করতে পারেন। এর আগে পিসিএস (পাঞ্জাব সিভিল সার্ভিস) অফিসার হিসেবে কাছে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। নভজোৎ সিমি পাঞ্জাবেরই মে’য়ে। তার বাবা ছিলেন একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের উচ্চ কর্মক’র্তা, মা গৃহিনী। তফশিলি পরিবার হওয়ায় ছোটবেলায় প্রতিবেশী, বন্ধুদের কাছে অনেক কুকথা শুনেছেন নভজোৎ। ফলে ছোটবেলা থেকেই সরকারি উচ্চপদে চাকরি করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি।

পড়াশোনা করেছেন পাঞ্জাবের একটি বেসরকারি স্কুলে।পরবর্তীতে লুধিয়ানার বাবা যশবন্ত সিং ডেন্টাল কলেজ থেকে স্নাতক হন। তারপর দাঁতের ডাক্তারি শুরু করেন। কিন্তু তার লক্ষ্য ছিল আইপিএস। ফলে চিকিৎসকের কাজ করতে করতেই ইউপিএসসি-র জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন। নয়াদিল্লিতে টিউশনও নিতে শুরু করেন।

কিন্তু প্রথম চেষ্টাতেই আইপিএস হওয়া মুখের কথা নয়। ২০১৬ সালে তিনি প্রথমে পিসিএস (পাঞ্জাব সিভিল সার্ভিস) অফিসার হন। ডাক্তারি ছেড়ে প্রশাসনিক পদে যোগ দেন। পরের বছর আইপিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। ভা’রতে ৭৩৪ র‌্যাঙ্ক করেন তিনি। এখন পাটনায় কর্ম’রত তিনি।

সেই নভজোৎ আবারও আলোচনায় এসেছেন। সম্প্রতি প্রে’ম ও বিয়ের কারণে আলোচনায় এসেছেন তিনি। ২০১৫ ব্যাচের আইএএস অফিসার তুষার সিঙ্গলার প্রে’মে পড়েছিলেন। এদিকে সেই আইএএস অফিসার আবার পশ্চিমবঙ্গে কর্ম’রত। সম্প্রতি ভ্যালেন্টাইন ডে-র দিন ৫৬৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে পাটনা থেকে তিনি উলুবেড়িয়ায় এসে হাজির হয়েছিলেন।

ক্যারিয়ার নিয়ে তারা এতোটাই ব্যস্ত যে বহু দিন ধরেই তাদের ভালোবাসার পরিণতিতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। তাই নভজোৎ স্বয়ং প্রে’মিক তুষারের অফিসে চলে আসেন বিয়ের জন্য।

এবার রেজিস্ট্রি করে বিয়েও সেরেছেন তারা। তবে কাজের চাপে এখনও কোনও অনুষ্ঠান করতে পারেননি তারা। পশ্চিমবঙ্গে ভোটপর্ব মিটলে ধূমধাম করে বিয়ের অনুষ্ঠান করবেন দু’জনে।

সূত্র- আনন্দবাজার পত্রিকা।