দুমুঠো খাবার যোগাতে এই বয়সে গ্রামে গ্রামে মিষ্টি বিক্রি করছে সুমন

বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেকারত্ব ও বেকারত্ব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দারিদ্রতাবৃদ্ধি একটি অন্যতম সমস্যা। মানুষ দুই বেলা দুই মুঠো খাবার জোগাড় করতে ব্যর্থ হচ্ছে। যেখানে একটা পূর্ণবয়স্ক মানুষ দুই বেলা দুই মুঠো খাবার যোগাতে গায়ের গাম পায়ে পরে। আর সেখানে একটি ১২ বছরের শিশু সংসারের হাল ধরতে হয়েছে। শুনতে একটু অবাক লাগলও কথাটা সত্যি। শিশুটির নাম ‘সুমন ঘোষ’।

সুমন বর্ধমানের মেমারির খাঁড়া গ্রামের বাসিন্দা। সেখানকার একটি স্কুলে পড়াশোনা করে সুমন। সে সপ্তম শ্রেণিতে পড়েন। সুমনের বাবা দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন, তাছাড়াও একাধিক রোগ তাকে শয্যাশায়ী করে দিয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী মানুষটি শয্যাশায়ী থাকায় সংসারের হাল ধরতে হয় সুমনের। পরিবার বলতে রয়েছে বাবা মা আর তিন বছরের ছোট বোন।

জীবন সংগ্রামের লড়াই এ মাঠে নামতে হয় ক্লাস সেভেনের ছেলেকে। মা নয়নমনি দেবী বাড়িতে মিষ্টি, সন্দেশ আর দই বানাতে শুরু করেন আর সেই মিষ্টি নিজের ভাঙা সাইকেলে চেপে বিক্রি করে বেরায় ছোট সুমন। এইভাবেই এইটুকু বয়সে নিজের ও পরিবারের সমস্ত দ্বায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছে সুমন। দরিদ্র অথচ মেধাবী এই রকম অজস্র উদাহরণ রয়েছে গ্রাম বাংলা, আর সুমন তারই উদাহরন।

যার দিন শুরু হয় ভোরবেলা উঠে গ্রামে মিষ্টি ফেরি করে তারপর নিজের পড়াশোনাও চালায় সুমন। বর্ধমানের মেমারি অঞ্চলের খাড়গ্রাম এর এই অভাবী পড়ুয়া বর্তমানে মেমারি খাড়গ্রামের জুনিয়র হাইস্কুলে ক্লাস সেভেনের পড়ুয়া সে। অভাবের জন্য স্কুলে ভর্তিও হতে পারেনি সুমন। পরবর্তীতে স্কুলের শিক্ষকদের সহায়তায় ভর্তি হয়। সারাদিন ঘুরে ঘুরে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মতো আয় করে সুমন।

আর তা থেকেই সংসার সামলে নিজের পড়াশোনা ও টিউশনির খরচ চালায়। তবে তারপরেও হাল ছাড়েনি। পড়াশোনায় যথেষ্ট মেধাবী সে। একদিন সমস্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করে জীবনযুদ্ধে জয়ী হবে এই কামনায় করেছেন সবাই। সুমন জানায়, সাইকেল নিয়ে মিষ্টি বিক্রি করতে যাওয়ার আগে প্রাইভেট টিউটরের কাছে গিয়ে আগে পড়াশোনা সেরে নেয়। সুমনের বাবা শরৎবাবু জানান, ছেলের বয়স কম হলেও বুদ্ধি অনেক। ওকে উচ্চ শিক্ষিত করার অনেক ইচ্ছে ছিল। তবে এই অভাবের সংসারে সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়া দূরের কথা। এখন ওকেই সংসারের হাল ধরতে হচ্ছে।