Wednesday , September 22 2021

রাজধানীতে ভাড়ায় মেলে স্বা’মী!

অনেক কিছু ভাড়ার পাশাপাশি এখন রাজধানীতে ভাড়ায় মিলছে স্বা’মীও! এ বাণিজ্যে তিন ধরনের কাজের জন্য স্বা’মী পরিচয়ে পুরু’ষ ভাড়া করা হয় বলে জানা গেছে। স্বা’মী হিসেবে ভাড়ায় খেটে নিজের সংসার চালাচ্ছেন এমন চাঞ্চল্যকর ত’থ্যও পাওয়া গেছে।

দিনে ১০০ টাকা থেকে মাসে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকায় ভাড়ায় স্বা’মী পাওয়া যায়। আবার একই পুরু’ষ ভাড়ায় খাটেন একাধিক না’রীর স্বা’মী পরিচয়ে এমন ত’থ্যও পাওয়া গেছে।

রাজধানীর জুরাইন এলাকার ফুটপাতের খুদে দোকানি আলো বেগমের স্বা’মী নেই। আরেক বিয়ে করে স্বা’মী চলে গেছে। কোথায় গেছে সেটাও তার জানা নেই।

তিনটি স’ন্তান নিয়ে ফুটপাতে কখনও পিঠা, কখনও মৌসুমি ফল, স’ঙ্গে চা-পান বিক্রি করে জীবন চালান তিনি। ছেলেকে চা-পানের দোকান আলাদা করে দিতে পাঁচ হাজার টাকার ঋ’ণ দরকার তার। একটি এনজিও থেকে ঋ’ণ পেতে স্বা’মী দরকার। এনজিওর লোকজন বলছে ঋ’ণ পেতে হলে স্বা’মী-স্ত্রী দুজনের ছবি লাগবে।

মাস কয়েক আগে এনজিওর ঋ’ণ পেতে একজন স্বা’মী ভাড়া করেছিলেন তিনি। ঋ’ণের টাকা থেকে ৫০০ টাকা দিয়েছেন তাকে। মাত্র ৫০০ টাকাতেই আলো বেগমের স’ঙ্গে স্বা’মী পরিচয়ে এনজিও অফিসে গিয়ে ছবি তুলে ঋ’ণ পেতে সহায়তা করেছেন বিশু নামের এক লোক।

ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে যৌ*aনকর্মীদের আনাগোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ওইসব যৌ*aনকর্মী এখন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ফ্ল্যাট বাড়ি ভাড়া নিয়ে দে’হ ব্যবসা শুরু করেছে।

বাড়ি ভাড়া নিতে গেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বা’মী ছাড়া বাড়ির মালিক বাসা ভাড়া দিতে চান না। বাড়ি ভাড়া নেওয়ার ওই প্রতিবন্ধকতার কথা চিন্তা করে যৌ*aনকর্মীরা তাদের পূর্বপরিচিত কোনো পুরু’ষকে স্বা’মী হিসেবে ভাড়া করেন। বাড়ি ভাড়া করার সময় স’ঙ্গে থাকেন ভাড়াটে স্বা’মী।

দেখা গেছে, বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় বাড়ির মালিককে বলা হয় স্বা’মী নিয়মিত ঢাকায় থাকে না, বাইরের কোনো জে’লায় চাকরি বা ব্যবসা করে। একই স’ঙ্গে বলা হয়, বাসায় নিয়মিত থাকবে তার স্ত্রী ও দুই বা তিন বোন। ওই বোনদের থাকার কথা বলে জায়েজ করে নেওয়া হয় আরো দুই-তিনজন যৌ*aনকর্মীকে। এভাবেই রাজধানীজুড়ে ফ্ল্যাট বাড়িগুলোতে চলছে যৌ*aনবাণিজ্য।

শনির আখড়ার সোহান (ছদ্মনাম) বরিশাল থেকে অভাবের তাড়নায় ঢাকায় আসেন। এসএসসিও পাস নয়, তাই কোনো চাকরি দিতে চাচ্ছেন না কেউ। এরই মধ্যে দেখা মিলে ছি’নতাইকারী কাজলের স’ঙ্গে। নিরূপায় হয়ে তার স’ঙ্গে যোগ দেয় সং’সদ ভবন এলাকায় ছি’নতাইয়ের কাজে। পরিবর্তন করে ফে’লে নিজের বংশ-পরিচয়ও। এরই মধ্যে পরিচয় হয় স্বা’মী পরিত্যক্তা রুপার (ছদ্মনাম) স’ঙ্গে। তখন তিনি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরির পাশাপাশি যৌ*aন ব্যবসায় লি’প্ত ছিলেন।

সি’দ্ধান্ত হয় স্বা’মী-স্ত্রী পরিচয়ে দুজন রাজধানীর শনির আখড়ায় বসবাস করবেন। এরপরই বিউটি পার্লার ব্যবসার আড়ালে রুপা শুরু করে জো’রালো যৌ*aনব্যবসা। বিধিবাম, এলাকার দুষ্ট বেরসিক ছেলেরা জেনে যায় সোহান-রুপা আসলে স্বা’মী-স্ত্রী নন।

দুজনের এ অবাধ বসবাসে বাধ সাদে তারা। দুজনকেই বা’ধ্য করে সত্যিকারের বিয়েতে। এছাড়াও সোহান রাজধানীর শান্তিনগর, বাড্ডা, ফার্মগেট এলাকাসহ ৮-৯টি স্থানে যৌ*aনকর্মীদের স্বা’মী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে নিজে কামাচ্ছেন মো’টা অঙ্কের টাকা। আর মাঝে মধ্যে খদ্দের জোগাড় করে দিলে তার কমিশনতো আছেই।

রাজধানীতে তিন ধরনের কাজের জন্য ম’হিলাদের স্বা’মী পরিচয়ে পুরু’ষ ভাড়া করার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা গেছে। বিশেষ করে যৌ*aনব্যবসার স’ঙ্গে জ’ড়িত না’রীরা বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় স্বা’মী হিসেবে লোক ভাড়া করে বাড়ির মালিককে দেখিয়ে থাকেন। এনজিওসহ বেশকিছু মাল্টিপারপাস কোম্পানি থেকে ক্ষুদ্রঋ’ণ নেওয়ার শর্ত হিসেবে স্বা’মীর পরিচয় ও তার ছবি ব্যবহার করতে স্বা’মী ভাড়া করেন।

ছাড়া, সাম্প্রতিককালে পাসপোর্ট অফিসে কোনো ম’হিলা স্বা’মী ছাড়া একা গেলে তাকে স্বা’মীর উপস্থিতি দেখানোর প্রয়োজনে স্বা’মী ভাড়া করে আবার স্বা’মী নিয়ে আসার ঝামেলা থেকে মুক্ত হতে হয়।

অনুসন্ধানে একই ব্যক্তির তিন-চারটে ফ্ল্যাট বাড়িতে স্বা’মীর পরিচয়ে ভাড়া খাটার বি’ষয়টি জানা গেছে। এমনি একজন সালাউদ্দিন। যে কিনা ছয় না’রীর স্বা’মী হিসেবে ভাড়া খাটেন। ভাড়া খাটার শর্ত হচ্ছে সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন স্বা’মী পরিচয়ে বাসায় অবস্থান করতে হবে, আর বাসার বাজারও করে দিতে হবে। বাসায় অবস্থান করা ও বাজার করার শর্ত দেওয়ার মানে হচ্ছে যাতে আশপাশের লোকজন কোনো প্রকার স’ন্দে’হ না করেন।

জামালপুরের মধ্যব’য়সী পুরু’ষ সালাউদ্দিন। এক যুগ আগে ঢাকায় এসে মিরপুর এলাকায় পান-সিগারেটের ব্যবসা শুরু করেন। ধীরে ধীরে জড়িয়ে যান এক স’ন্ত্রাসী চ’ক্রের স’ঙ্গে। ধরা পড়ে জে’লও খাটেন দেড় বছর। জে’ল থেকে বেরুনোর পর পরিচয় হয় এক ম’হিলার স’ঙ্গে। সেই থেকে ভাড়ায় স্বা’মীবাণিজ্য শুরু সালাউদ্দিনের।

এখন রাজধানীর মিরপুর, বাড্ডা ও গাবতলী এলাকায় ছয়টি বাসায় ছয় না’রীর ভাড়াটে স্বা’মী তিনি। ভাড়া পান ৩০ হাজার টাকা। কোনো মাসে বেশি মেলে আবার কোনো মাসে কিছুটা কমও মেলে বলে জানান সালাউদ্দিন। নিজের স্ত্রী ও এক ছেলে নিয়ে ভাড়ায় থাকেন মিরপুরের কালসী এলাকায়। ভাড়ায় স্বা’মী খাটাই এখন তার একমাত্র পেশা বলে জানান।

জানা গেছে, রাজধানীতে বিভিন্ন ক্ষুদে ব্যবসার স’ঙ্গে জ’ড়িত বেশিরভাগ বস্তিবাসী বা ভাসমান না’রীরা উদয়-অস্ত পরিশ্রম করে স’ন্তানদের নিয়ে জীবন ধারণ করছেন।

তাদের বেশির ভাগই স্বা’মী পরিত্যক্তা। ব্যবসা পরিচালনা বা সম্প্রসারণের কারণে কখনও কখনও এদের ক্ষুদ্রঋ’ণের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এনজিওগুলো বা নগরীতে সুদের ব্যবসা করে এমন সংস্থাগুলো ক্ষুদ্রঋ’ণ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বা’মী-স্ত্রী দুজনের ছবি ও নাম ব্যবহার করে এবং দুজনকেই ঋ’ণের দায়ে আবদ্ধ রাখেন। এনজিওগুলোর এ নিয়মের কারণে স্বা’মী পরিত্যক্তাদের ক্ষুদ্রঋ’ণ পাওয়ার সুযোগ থাকে না।

সে ক্ষেত্রে বা’ধ্য হয়ে পরিচিত এবং ভালো সম্প’র্ক আছে এমন কাউকে স্বা’মী হিসেবে ভাড়া করে সংস্থাগুলো থেকে ব্যবসার ঋ’ণ পান ম’হিলারা। বিনিময়ে ভাড়াটে স্বা’মীকে ধরিয়ে দিতে হয় নগদ কিছু। আবার জানা গেছে, অনেকে কেবল ভালো সম্প’র্কের কারণে বিনা টাকায় ম’হিলাদের ঋ’ণ পেতে সহায়তা করেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাম্প্রতিককালে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্টের জন্য ছবি তুলতে অফিসে যেতে হয়। অজ্ঞতাপ্রসূত কোনো না’রী একা পাসপোর্টের ছবি তুলতে গেলে তাকে স্বা’মী স’ঙ্গে রাখার কথা বলা হয়। সেই ক্ষেত্রে ম’হিলা পাসপোর্ট প্রত্যাশীকে সময় ব্যয় করে আরেক দিন আসতে হয় অথবা অন্য একদিন যেতে হয়।

ম’হিলারা ফিরে যাওয়ার সময় এখানকার কিছু দালাল সুকৌশলে ম’হিলাদের প্রস্তাব দেন, ‘টাকা-পয়সা খরচ করে আবার আসবেন। তারচেয়ে মাত্র ১০০ টাকা খরচ করেন। আমি একজন লোক দিচ্ছি, উনি আপনার স’ঙ্গে যাবেন এবং মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য উনাকে স্বা’মী পরিচয় দেবেন। ছবিটা তোলা হলে চলে যাবেন।’