হা’সপাতাল থে’কে হা’সপাতালে ছু’টছে মা’নুষ

জ্বর-সর্দি-কাশি-শ্বাসক’ষ্টের রো’গীদের নিয়ে স্ব’জনরা হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুট’ছেন। কিন্তু কোথাও চিকিৎসা মিলছে না। যেই হাসপাতালে রো’গী নিয়ে যান সেখান থেকেই ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে শে’ষতক অনেকে আসছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তবে এই হাসপাতালে ক’রোনা উপসর্গ আছে এমন রো’গী ভ’র্তির মতো সুযোগ কমে গেছে।

সুস্থ হয়ে কোনো রো’গী বাড়ি ফিরলে কেবল সেখানে নতুন রো’গী ভর্তি করা হচ্ছে। ওদিকে প্রতিদিনই লাফিয়ে বাড়ছে শনাক্ত ও মৃ’ত্যু। রাজধানীর ক’রোনা নির্ধারিত সব হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা মিলছে না। সাধারণ শয্যাও খালি নেই অনেক হাসপাতালে। ফলে রো’গীর স্বজনদের একটি শয্যার জন্য হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। প্রয়োজনে রো’গীকে অক্সিজেন দিতে না পারায় দুই-তিনদিনের মধ্যে তাদের অবস্থা খা’রাপ হচ্ছে। শ্বাসক’ষ্টসহ তাদের কাউকে বাড়িতে ফেরত নেয়া হচ্ছে।

সং’ক্র’মণ ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে বাড়ছে ভিড়। সকাল থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে পরীক্ষা করাতে পারছেন না। স্বা’স্থ্য অধিদপ্তরের ক’রোনা ডেডিকে’টেড হিসাবে তালিকাভুক্ত এবং তালিকাভুক্ত নয়-এমন একাধিক বেস’রকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শয্যার অভাবে প্রতিদিন রো’গীদের ফেরত দিতে বা’ধ্য হচ্ছেন তারা। দিনদিন ক’রোনা পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে পড়ছে। শয্যার অভাবে অনেক রো’গী বাড়িতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এসব রো’গীর পরিপূর্ণ আইসোলেশন বাসায় সম্ভব নয়। এতে তাদের কারণে সং’ক্র’মণ চ’ক্রবৃ’দ্ধি হারে বাড়বে। এ ছাড়া সঠিকভাবে কোয়ারেন্টিনও করা হচ্ছে না।

এদিকে গতকাল সকাল থেকেই সরজমিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও ক’রোনা ওয়ার্ডে দেখা গেছে রো’গীদের উপচে পড়া ভিড়। অনেকেই রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে সিট না পেয়ে ভিড় করছেন এখানে। কিন্তু এখানেও সিট খালি নেই। স্বজনরা এমন রো’গীদের নিয়ে চিকিৎসকদের পেছনে হন্যে হয়ে ছুটছেন আর কাকুতি মিনতি করছেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এম্বুলেন্স চালক মো. কাউসার জানান, তার গাড়িতে ক’রোনার একজন নারী রো’গী মোহাম্ম’দপুর থেকে নিয়েছেন।

প্রথমে তিনি কিডনি হাসপাতাল এবং পরে হৃদরো’গ হাসপাতাল ঘুরে এখানে এসেছেন। ঢাকা মেডিকেলেও এই রো’গী ভর্তির সিট মেলেনি। তারা মুগদায় যাওয়ার কথা বলছেন। তিনি বলেন, ক’রোনার রো’গী অনেক বেড়েছে। দিনের চেয়ে রাতের দৃশ্য আরো ভ’য়াবহ। পরে মুগদা হাসপাতালে ওই রো’গীকে ভর্তি করা হয়। এই প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক মানবজমিনকে বলেন, আমাদের এখানে কোভিড রো’গীর জন্য যত পরিমাণ শয্যা ছিল তা রো’গীতে পূর্ণ হয়ে গেছে।

ইচ্ছা করলেও অতিরিক্ত রো’গী নিতে পারছি না। কারণ কোভিড রো’গীদের অক্সিজেন দরকার হয়। প্রায় ৭০০ রো’গী রয়েছেন এখানে। হাসপাতালে মেডিসিন বিল্ডিংয়ে ৫৮০ রো’গীর জায়গায় প্রায় ৬০০ রো’গী রয়েছেন। যেখানে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের বাইরে সিলিন্ডার অক্সিজেন দিয়ে বাকিদের রাখা হয়েছে। আর সার্জারি বিল্ডিংয়ে ২০০ রো’গীর ব্যবস্থা রয়েছে। যেখানে গাইনি ও সার্জারি রো’গী থাকছেন। সেখানে মেডিসিনের ডাক্তাররা যান না। তিনি অনেকটা নিজের অ’সহায়ত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, নতুন রো’গী ভর্তি করার মতো আর কোনো শয্যা নেই ঢাকা মেডিকেলে। কোনো রো’গী তুলনামূলকভাবে একটু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেই কেবল নতুন রো’গী ভর্তি হতে পারছেন।

সেটাও গতকাল করা যায়নি। তিনি জানান, ৮০ থেকে ৯০ ভাগ রো’গী বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে এখানে আসেন। এখানে ভর্তি হতে না পারলে তারা কোথায় যাবেন। আমরা এখন তাদের ভর্তি করতে পারছি না। রো’গী ভর্তির জন্য অনেকে চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাদের ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনার কথা উল্লেখ করে পরিচালক বলেন, ক’রোনার রো’গীদের জন্য ১০টি আইসিইউ সিট বাড়িয়ে ২০টি করা হচ্ছে। এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ক’রোনা ইউনিটে আইসিইউ’র সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ।

গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মি’ল্টন হলে ‘ক’রোনা পরিস্থিতি: বর্তমান প্রেক্ষিত ও ভবি’ষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমানে বিএসএমএমইউ’তে ক’রোনা ইউনিটে আইসিইউ সংখ্যা রয়েছে ১৮টি। আরো ১০টি বাড়ানো হবে। আর ক’রোনা ইউনিটের জন্য শয্যা রয়েছে ১৫০টি যা ১০০টি বাড়িয়ে করা হবে ২৫০টি। এ ছাড়াও তিনি আহ্বান জানান, ক’রোনার সং’ক্র’মণরোধে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, বিয়ে সাদি ও মা’নববন্ধন যাতে আপাতত বন্ধ রাখা হয়।