হাসপাতালে ‘মৃত সন্তান’ অ্যাম্বুলেন্সে জীবিত প্রসব!

‘গর্ভের সন্তান মৃত’ বলে ঘোষণা দিলেন চিকিৎসক। তবে নরমাল ডেলিভারিতে জীবিত সন্তান প্রসব করেছেন এক মা। এমন ঘটনা ঘটেছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায়।
রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন সড়কে একটি অ্যাম্বুলেন্সে এ সন্তান জন্ম দেন নুরাবাদ ইউপির বাসিন্দা মো. শরিফের স্ত্রী ফাতেমা বেগম।

ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগম ও তার পরিবার অভিযোগ করে বলেন, শনিবার সকালে প্রসব ব্যথা হলে স্থানীয় ধাত্রী নাজমা বেগম প্রাথমিকভাবে নরমাল প্রসবের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে রক্তক্ষরণ হলে রাতে উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে কর্মরত ডাক্তার মরিয়ম আক্তার সোনিয়াকে দেখালে তিনি আল্ট্রা করেন। আল্ট্রা রিপোর্ট দেখে প্রেসক্রিপশনে ‘আইইউডি’ অর্থাৎ ‘গর্ভের সন্তান মৃত’ উল্লেখ করে ওই রোগীকে বরিশাল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। তবে বেসরকারি ওই ক্লিনিকে রোগীর আল্ট্রা করলেও আল্ট্রা রিপোর্টে চিকিৎসক স্বাক্ষর করেননি।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রোগী ও তার পরিবার চরফ্যাশন উপজেলা সরকারি হাসপাতালে যান। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নুর মোহাম্মদ তালুকদার বেসরকারি ক্লিনিকের ডাক্তার মরিয়ম আক্তার সোনিয়ার রিপোর্ট দেখে রোগীর প্রেসক্রিপশন আইইউডি উল্লেখ করে হাসপাতালে ভর্তির অনুমতি দেন।

রোগীর পরিবারেরর এক স্বজন জানান, চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তির পরে প্রসূতি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক হাসপাতালে রোগীর অপারেশন করা সম্ভব না বলে রোগীকে বরিশাল নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন।

সন্ধ্যায় স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা পয়সা উঠিয়ে অসহায় ওই রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে বরিশালের পথে রওয়ানা হলে হাসপাতালের সড়কেই তিনি জীবিত নবজাতক ছেলে সন্তান প্রসব করেন। এসময় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ওই রোগীকে ভর্তি করেন তার পরিবার। এ বিষয়ে ডাক্তার মরিয়ম আক্তার সোনিয়া সঠিক তথ্য গোপনের উদ্দেশ্যে সংবাদকর্মীদের কাছে নানাভাবে তথ্য উপস্থাপন করেন।

এছাড়াও ‘আইইউডি’র অপব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, আল্ট্রায় গর্ভের শিশুর হার্ট বিট না থাকায় আইইউডি উল্লেখ করে দ্বিতীয়বার দেখার জন্য বরিশাল রেফার্ড করা হয়েছে।

চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার শোভন বসাক বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন। ইউএনও রুহুল আমিন বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।