সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে কওমি মাদরাসায় চলছে পরীক্ষা

সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও দেশের অনেক এলাকায় কওমিসহ বিভিন্ন মাদরাসা খোলা রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মাদরাসাগুলোতে দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষাও নেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়ে সব কওমি মাদরাসা বন্ধ রাখতে মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের এমন নির্দেশনার পরও চলমান দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষা চলবে বলে জানিয়েছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ‘আল হাইআতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’। তাদের দাবি, পরীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে সরকারের অনুমতি আছে!

আগে থেকে নির্ধারিত বুধবারের (৭ এপ্রিল) দাওরায়ে হাদিসের দুটি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। সারাদেশের ২২২টি পরীক্ষা কেন্দ্রে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে সকাল ৯টা থেকে এবং বিকাল ৩টা থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কওমি মাদরাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এরই মধ্যে পরীক্ষা নিচ্ছে কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। বর্তমান লকডাউন পরিস্থিতিতে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স সমমান) পরীক্ষা যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কার্যকরী সদস্য মুফতি নুরুল আমিন।

বুধবার (৭ এপ্রিল) তিনি বলেন, ‘গত ৩ তারিখ থেকে আমাদের এ পরীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আজ বুধবার দুই শিফটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ পরীক্ষা। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা আয়োজন করা হচ্ছে। বর্তমান লকডাউন পরিস্থিতির কারণে এ পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। আগামী রোববার পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেটি আগামীকাল বৃহস্পতিবার শেষ হবে।

লকডাউনের মধ্যে পরীক্ষা আয়োজন সরকারি নির্দেশনা অমান্য হচ্ছে কি-না এমন বিষয়ে জানতে চাইলে মুফতি নুরুল আমিন বলেন, কওমি শিক্ষায় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা ও কারিগরি বিভাগ থেকে যে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে সেটি আমাদের মুরুব্বিরা পর্যালোচনা করছেন। সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে আমাদের পরীক্ষাগুলো সংকোচন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

‘সরকার সব আবাসিক ও অনাবাসিক মাদরাসা বন্ধ রাখার বিষয়ে গতকাল পুনরায় নির্দেশনা দিয়েছে’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের ওই নির্দেশনা আমাদের কাছে আছে। সেখানে পরীক্ষা বন্ধের ব্যাপারে কোনো কথা নেই। আমাদের আবাসিক-অনাবাসিক সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। পরীক্ষা সরকারের অনুমতি সাপেক্ষেই নেয়া হচ্ছে।