আবারও লকডাউনের সময় বাড়ানোর বিষয়ে যা জানা গেল

সারাদেশে ৫ এপ্রিল থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। সাত দিনের এ লকডাউন সংক্রমণ কমিয়ে আনতে কাজ করবে কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আর এই সময়ের মধ্যে সংক্রমণ কমানো না গেলে লকডাউনের সময় বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. শর্মিলা হুদা বলেন, বাংলাদেশে লকডাউন দিয়ে সংক্রমণ কমানো সম্ভব নয়। তিনি মনে করেন, লকডাউন মানে হচ্ছে নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে যেতে পারবে না। কিন্তু বাংলাদেশে সে বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। তিনি মনে করেন, বর্তমানে যেভাবে লকডাউন চলছে এটি দিয়ে বাংলাদেশে সংক্রমণ কমিয়ে আনার কোন সম্ভাবনা নেই।

ডা. শর্মিলা হুদা বলেন, লকডাউন দেয়ার উদ্দেশ্যই হচ্ছে সংক্রমণ কমানো। তবে এর প্রমাণ থাকতে হবে। আর এর একমাত্র উপায় হচ্ছে সবকিছুর হার কমবে। সংক্রমণের হার কম হবে, মৃত্যুর হার কম হবে, এটা দিয়েই তো বোঝা যাবে যে সংক্রমণ কম হচ্ছে। তিনি মনে করেন, সাত দিনের লকডাউনের মাধ্যমে আসলে সংক্রমণের হার কমিয়ে আনাটা সম্ভব নয়।

এই সাত দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে হয়তো কিছুটা আন্দাজ পাওয়া যেতে পারে যে পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে। তবে এই সাত দিনের লকডাউন দিয়ে কিছুই হবে না। একই ধরণের মত দিয়েছেন পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশনের সাবেক চেয়ারপার্সন ডা. ফাতেমা আশরাফও। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এরইমধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।

লকডাউনের আগে মানুষ ঢাকা ছেড়েছে। যার কারণে গ্রামাঞ্চলও এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই সাত দিনের লকডাউনের মাধ্যমে কিছু বিষয় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, লকডাউনের মাধ্যমে হয়তো সামাজিক অনুষ্ঠান বা ভিড় কমানোর মতো বিষয়গুলোতে কিছুটা লাগাম টানা যেতে পারে।

তবে এটি দিয়ে সংক্রমণ কমিয়ে আনা যাবে না বলে জানান তিনি। তার মতে, সংক্রমণ কমিয়ে আনতে হলে ব্যক্তি ও পারিবারিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। তা না হলে সংক্রমণ বাড়বে এবং হাসপাতারে স্থান সংকটও দেখা দিতে পারে বলে হুশিয়ার করেন তিনি। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন বলেন, সংক্রমণ কমাতে হলে শুধু লকডাউনের মতো একটা পদ্ধতি দিয়ে কাজ হবে না।

সেক্ষেত্রে সবগুলো পদ্ধতিই অনুসরণ করতে হবে। লকডাউনের সাথে সাথে স্বাস্থ্য বিধিও মেনে চলতে হবে বলে মত দেন তিনি। পাশাপাশি করোনা সংক্রমণের পরীক্ষা করানো, কন্টাক্ট ট্রেসিং করা, আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিনের মতো বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে। সাথে ভ্যাকসিন দেয়া অব্যাহত রাখতে হবে। এসব বিষয় সমন্বিতভাবে নেয়া সম্ভব হলে করোনা সংক্রমণ কমিয়ে আনা যাবে বলে মনে করেন তিনি।

ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন আরও বলেন, মূলত সংক্রমণ কমিয়ে আনার জন্যই লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যদি দেখা যায় যে, সংক্রমণ কমে আসছে তাহলে আরো কমাতে লকডাউন বাড়ানো হতে পারে। আবার যদি পরিস্থিতি উল্টো হয় যে, রোগী বাড়ে এবং হাসপাতালে জায়গা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না এমন পরিস্থিতি দাঁড়ায়, তাহলেও লকডাউন বাড়তে পারে। সূত্র-বিবিসি বাংলা