লকডাউনের মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়ছে!

দেশে মহামারি করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে এই ভাইরাসটিতে। গতকালও (শুক্রবার) ১০১ জন মারা গেছেন। এ অবস্থায় চলমান ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সরকারের কাছে।

করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকার গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি এই প্রস্তাব দিয়েছে। ফলে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে চলমান ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

শনিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, করোনার সংক্রমণ বেশি থাকায় চলমান লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়তে পারে।

তবে লকডাউন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে এ বিষয়ে আগামী সোমবার সভা ডাকা হয়েছে। সেখানেই লকডাউনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে বলে জানান তিনি।

জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, লকডাউন বাড়ানোর পরামর্শ আছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৯ এপ্রিলের সভার পর ওই দিন বা ২০ এপ্রিল কী হবে, তা জানিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সারা দেশে লকডাউন চলছে। সরকার সাত দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে। এটা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট নয়। করোনা সংক্রমণ যে হারে বাড়ছে, তাতে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি লকডাউন আরও বাড়ানো উচিত।’

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের তথ্য জানায় সরকার। করোনায় প্রথম মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ। এরপর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল। কয়েক দফায় বাড়িয়ে টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ছিল।

একপর্যায়ে করোনার সংক্রমণ কমেও গিয়েছিল। কিন্তু গত মার্চ মাস থেকে করোনার সংক্রমণ আবারও বাড়ছে। পরপর দুদিন করোনায় সংক্রমিত হয়ে ১০১ জন করে মারা গেছেন।

এমন পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় ঢেউয়ের করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল সাত দিন বিধিনিষেধ আরোপ করে লকডাউন বলবৎ করে সরকার। শুরুতে গণপরিবহন বন্ধ রাখা হলেও পরে মহানগরগুলিতে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়। শেষ দিকে এসে সময় বেঁধে দিয়ে দোকানপাট ও শপিং মল খোলা রাখারও সিদ্ধান্ত আসে। পরে সরকারের সেই সিদ্ধান্ত আরও দুদিনের জন্য বাড়ানো হয়।

কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সংক্রমণ প্রতিরোধে ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল কঠোর বিধিনিষেধসহ লকডাউন আরোপ করা হয়। চলমান লকডাউনে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্ধ রয়েছে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস।

তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত থাকলেও পরে সেখান থেকে সরে আসে সরকার। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

সংক্রমণ ঠেকাতে মসজিদে মুসল্লির সংখ্যাও বেঁধে দেয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়, একটি মসজিদে জামায়েতে ২০ জনের বেশি নামাজ আদায় করতে পারবেন না।

বুধবার থেকে সারা দেশে ‘সর্বাত্মক’ লকডাউন শুরুর আগে ১২ এপ্রিল সন্ধ্যায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

যেখানে বলা হয়েছে, মাহে রমজানে তারাবির নামাজের ক্ষেত্রেও এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে। নামাজের খতিব, ইমাম, হাফেজ, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরাও এই ২০ জনের মধ্যেই পড়বেন।