Wednesday , September 22 2021

পুলিশকে হারামজাদা বলে মন্ত্রীকে ফোন দিলেন নারী চিকিৎসক জিমি

সর্বা’ত্মক ল’কডা’উ’ন চলাকালে রাজধানীতে পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়ায় পুলিশ সদস্য ও ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে রীতিমতো তুল’কালা’ম কা’ণ্ড করেছেন এক নারী চিকিৎসক। পুলিশ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট বার বার অনুরোধ করেও তার কাছ থেকে মুভমেন্ট পাস বা কোন মেডিকেলের চিকিৎসক পরিচয়পত্র বের করতে পারেননি।

রবিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে দুপুরে এলিফ্যান্ট রোডের বাটা সিগন্যালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইবা শওকত জিমি ভ্রাম্যমাণ আদালতের চেকে পড়েন। সেখানে ঢাকা জেলা প্রশাসন অফিসের সহকারী কমিশনার শেখ মো. মামুনুর রশিদ আদালত পরিচালনা করছিলেন। নিউ মার্কেট থানার একজন পরিদর্শকের নেতৃত্বে একাধিক পুলিশ সদস্য সেখানে দায়িত্বরত ছিলেন।

চেক পোস্টে পুলিশ সদস্যরা চিকিৎসকের কাছে তার আইডি কার্ড দেখতে চান। সঙ্গে আইডি কার্ড আনেননি বলে জানান চিকিৎসক জিমি। এরপর তার কাছে মুভমেন্ট পাস দেখতে চাওয়া হয়। এ সময় জিমি কিছুটা উ’ত্তে’জি’ত হয়ে পড়েন। জিজ্ঞাসা করেন, ডাক্তারের মুভমেন্ট পাস লাগে?

এলিফ্যান্ড রোডে পুলিশ চেকপোস্টে ওই নারীর কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চায় পুলিশ। এতে উ’ত্তে’জিত হয়ে উঠেন তিনি। পুলিশের কাছে মু’ক্তিযো’দ্ধার সন্তান দাবি করেন তিনি। বলেন, ‘আমি বীর বি’ক্রমের মেয়ে। আমার বাবা যু’দ্ধ করেছিল বলেই তোমরা পুলিশ হয়েছ।’ পাল্টা জবাব, ‘আমরাও ভেসে আসিনি। আমিও মু’ক্তিযো’দ্ধা’র সন্তান। আপনার বাবা একা যু’দ্ধ করে নাই।’ এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের গা’লিগা’লা’জ করতে থাকেন। হু’ম’কি দেন চাকরি হা’রানো’র। এমনি একটি ভি’ডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভা’ইরা’ল হয়েছে। পুলিশ সদস্য ও ম্যাজিস্ট্রেটকে বার বার নমনীয়ভাবে কথা বলতে দেখা যায়। কিন্তু ওই নারী তাদের সাথে অ’সৌজন্যমূ’লক আচরণ করতে থাকেন।

৫ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের ওই ভি’ডি’ওতে দেখা যায়, ওই নারী পুলিশকে বলেছেন, ‘ক”রো’নায় জীবন গেছে কয়জন ডাক্তারের, আর আপনারা কতজন ম’রছে’ন। আমার কাছে আবার চান মুভমেন্ট পাস।’ এরপরই পাল্টে যায় পরিস্থিতি। পুলিশের এক সদস্য ওই নারীকে বলেন, ‘আপনি আমাদের ধ’ম’ক দিচ্ছেন কেনো?’ জবাবে নারী বলেন, ‘আমি বীর মু’ক্তিযো’দ্ধা শওকত আলীর মেয়ে।’ পুলিশও বলে, ‘আমিও মু’ক্তিযো’দ্ধার ছেলে। আপনি আমাকে শোনাচ্ছেন মু’ক্তিযো’দ্ধার কথা।’

এসময় নিজেকে চিকিৎসক দাবি করা ওই নারী পুলিশকে বলেন, ‘ডাক্তার হয়’রা’নি বন্ধ করতে হবে। আমি বিএসএমএমইউ প্রফেসর, বীর বিক্রমের মেয়ে। আমাকে আপনারা হ’য়রা’নি করতে পারেন না।’ পরে পুলিশের আরেক সদস্য বলেন, ‘আপা আপনাকে তো হ’য়রা’নি করা হচ্ছে না। আপনার কাছে পরিচয়পত্র চাওয়া হচ্ছে। এর পরে নিজ গাড়িতে ওঠে যান ওই নারী চিকিৎসক।

তখন পুলিশের এক সদস্য ওই নারীকে বারবার বলেন, ‘আপনি আমাকে তু’ই তু’ই করে বলছেন কেন?’ এক পর্যায়ে পুলিশকে তিনি হয়রানি করলে আন্দোলনের হুমকি দেন। পুলিশ জবাবে বলছে, ‘আমাদের আন্দোলনের ভয় দেখাচ্ছেন। আর আমি কে, সেটা এখন তোদের দেখাচ্ছি হা’রামজা’দা।’ এই কথা বলে এক ‘মন্ত্রীকে’ ফোন করেন তিনি। ফোনে তাকে হ’য়রা’নি করার কথা বলেই পুলিশ সদস্যের হাতে তার ফোন তুলে দেন কথা বলার জন্য। তারপরও পুলিশকে পরিচয়পত্র দেখাননি তিনি।