কন্যা সন্তান হওয়ায় স্বামীর বাড়ি ছাড়তে হলো রোকসানাকে!

কন্যা সন্তান জ’ন্ম দেওয়ায় এক গৃহবধূকে স্বামীর বাড়ি ছাড়তে হয়েছে বলে অ’ভিযোগ উঠেছে। স্বামীর বাড়িতে ঠাঁই না পেয়ে পুলিশের সহায়তায় নবজাতক সন্তানসহ বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন গৃহবধূ রোকসানা বেগম।

বৃহস্পতিবার বিকালে তিন দিন বয়সী নবজাতক ও তার মা রোকসানার স’’ঙ্গে এই ঘ’টনা ঘ’টেছে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজে’লার নলডা’ঙ্গা ইউনিয়নের প্রতাপ ঘোড়ামা’রা গ্রামে।তবে স্বামী রাজা মিয়া দা’বি ক’রেছেন, তিনি রোকসানা বেগমকে তালাক দিয়েছেন।

তাই তাকে সন্তানসহ বাড়িতে উঠতে দেননি।তবে স্থা’নীয়রা জা’নিয়েছেন, প্র’সব ব্যাথা শুরু হলে স্বামীর বাড়ি থেকেই ফুফি শাশুড়ির স’’ঙ্গে হাসপাতা’লে গিয়েছিলেন রোকসানা বেগম। রোকসানা বেগম জা’নান, তার বাবার বাড়ি সুন্দরগঞ্জ উপজে’লার ধনিয়ারকুড়া গ্রামে।

তিনি ওই গ্রামের লুৎফর রহমানের মে’য়ে। পারিবারিকভাবে গত বছরের ১০ জুন সাদুল্যাপুর উপজে’লার প্রতাপ ঘোড়ামা’রা গ্রামের মহব্বর আলীর ছে’লে রাজা মিয়ার স’’ঙ্গে তার বিয়ে হয়। এটি তাদের উভ’য়েরই দ্বিতীয় বিয়ে। তিনি জা’নান, বিয়েল প্রথম মাসেই তিনি গ’র্ভধারণ করেন।

বি’ষয়টি জানতে পেরে তখন থেকেই শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে স’ন্দে’হ করে মা’নসিক নি’র্যাতন শুরু করেন। এরপর থেকে এভাবেই তিনি শ্বশুর বাড়িতে ছিলেন। রাজা মিয়া দা’বি করেন, বিয়ের কয়েকদিন পরই তিনি জানতে পারেন তার স্ত্রী’ গ’র্ভধারণ ক’রেছেন।

তখন তার চলাফেরা কিছুটা বেপরোয়া ভাব দেখেন। এজন্য তিনি বিয়ের ২২ দিন পরই ২০২০ সালের ২ জুলাই রোকসানা বেগমকে তালাক দিয়েছেন। চাকরির সুবাধে তিনি যেহেতু ঢাকায় থাকতেন, তাই তালাক দেওয়ার পরও রোকসানা বেগমকে নিজে’র বাড়িতেই থাকতে দিয়েছেন।

রোকসানা বেগম জা’নান, তার স্বামী রাজা মিয়া সবসময়ে পুত্র সন্তান আশা ক’রতেন। কিন্তু তার কন্যা সন্তান হবে জানতে পেরে তখন থেকেই খা’রাপ আচরণ শুরু করেন। স্বামীর বাড়িতেই থাকা অব’স্থায় গত ৮ মা’র্চ প্র’সব ব্যাথা শুরু হলে ফুফি শাশুড়ি কোহিনুর বেগম তাকে রংপুরের একটি হাসপাতা’লে নিয়ে যান।

সেখানে তিনি অ’স্ত্রোপ’চারের মাধ্যমে কন্যা সন্তান প্র’সব করেণ। হাসপাতা’লে তিন দিন থাকার পর ১১ মা’র্চ বিকালে সন্তানসহ স্বামীর বাড়ীতে আ’সলে তাকে উঠতে দেননি শ্বশুর মহব্বর আলী। এসময় তিনি জা’নান, ছে’লে রাজা মিয়া তাকে তালাক দিয়েছেন।

তাই এই বাড়িতে আশ্রয় তার হবে না।এরপর শ্বশুর বাড়িতে তালা দিয়ে অন্যত্র চলে যান। এই বি’ষয়ে জানতে মহব্বর আলীর স’’ঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল দিলেও সেটি ব’ন্ধ পাওয়া গেছে।

শাশুড়ি আসমা বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকেই রাজা মিয়ার স’’ঙ্গে স্ত্রী’ রোকাসানা বেগমের ঝামেলা শুরু হয়। তখন ছে’লে রাজা মিয়া তাকে তালাক দিয়েছেন বলে শুনেছেন। সাদুল্যাপুর থা’নার ওসি মাসুদ রানা জা’নান, ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে ঘ’টনাস্থলে পুলিশ পা’ঠানো হয়েছিল।

সেখানে গিয়ে তালাব’দ্ধ একটি বাড়ির সামনে নবজাতক সন্তানসহ মা রোকসানা বেগমকে পাওয়া যায়। ওই সময় রোকসানা বেগমের স্বামী এবং শ্বশুর-শাশুড়িকে পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসায় নবজাতকের সু’স্থতার বি’ষয় চিন্তা করে রোকসানা বেগমকে তার বাবার বাড়ি পা’ঠানো র ব্যব’স্থা করা হয়।

পরে নবজাতকসহ রোকসানা বেগমকে নিয়ে যান তার মা ফাতেমা বেগম। এই বি’ষয়ে এখনো পর্যন্ত কেউ লিখিত অ’ভিযোগ করেনি। অ’ভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আ’ইনগত ব্যব’স্থা নেওয়া হবে। গাইবান্ধা জে’লা জজ আ’দালতের এপিপি অ্যাডভোকেট এমএ মাজেদ সরকার বলেন, গ’র্ভবতী অব’স্থায় কোন নারীকে তালাক দেওয়া যাব’েনা। ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় কেউ গ’র্ভবতী নারীকে তালাক দিলে সেটি কা’র্যকর হবে না।

যদি তালাক দিতেই হয় তবে সন্তান প্র’সবের তিন মাস পর তালাক দিলে সেটি কা’র্যকর হবে। রাষ্টীয় এই নিময় অনুযায়ী রোকসানা বেগমের তালাক কা’র্যকর নয়। যদি তার স্বামী তালাক দিয়েও থাকেন তবে সেটি এখনো কা’র্যকর হয়নি। সাদুল্যাপুর উপজে’লা স্বা’স্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুরঞ্জন কুমা’র বলেন ‘মায়ের গ’র্ভে সন্তান মে’য়ে হবে, নাকি ছে’লে হবে’ সেটির জন্য বাবায় দায়ী। এজন্য মাকে কোন প্রকার দোষারোপ করা যাব’ে না। সেক্ষেত্রে রোকসানা বেগমকে দোষ দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। কন্যা সন্তান জ’ন্ম দেওয়ার জন্য কোন মাকেই এককভাবে দায়ী করা ভুল।’