গ্রে’ফতা’র ঠে’কাতে ও সম’ঝোতা করতে সরকারকে যে প্রস্তাব দিলেন হেফাজত নেতারা

সরকারের ক;ঠো’র অবস্থানের কারণে কো;ণঠা;সা হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতারা সমঝো;তার চে’ষ্টা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে সরকারের একটি গো’য়ে’ন্দা সং”স্থার সঙ্গে

হেফাজতের পাঁচ শীর্ষ নেতা বৈঠক করেছেন। হেফাজতের পক্ষ থেকে বৈঠকে নেতৃ’ত্ব দিয়েছেন সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা নূরুল ইসলাম জেহাদী। হেফাজতের নেতারা চাইছেন, আর কোনও নেতাকর্মীকে যেন

আ;ইন’শৃঙ্খ;লা বা’হি’নী গ্রে’ফ’তা’র না করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এ বিষয়ে ব’ক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা নূরুল ইসলাম জে;হা’দীর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হেফাজতের একজন মধ্যম সারির নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব নূরুল ইসলাম জেহাদীর নেতৃ’ত্বে তিন জন সহকারী মহাসচিব ও একজন নায়েবে আমির ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তারা হেফাজতের নি;র্দো;ষ ব্যক্তিদের মুক্তি, বয়স্কদের হ;য়;রা;নি না করা, পুলিশের গু;;লিতে নি;;হ;তদের ক্ষ;তিপূর;ণ, কওমি মাদ্রাসা খুলে দেওয়াসহ কয়েকটি দাবি জানান।

হেফাজতের ওই নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সরকার হেফাজতকে বি;রো;ধী দল মনে করে কো;ণঠা;সা করার চে;ষ্টা করছে। কিন্তু হেফাজত একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। যেভাবে হেফাজতের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে তাতে পরিস্থিতি আরও ঘো;লাটে হতে পারে। এছাড়া হেফাজতের অরাজনৈতিক আ;ন্দোলনে তৃতীয় পক্ষ ঢু;কে গিয়ে পরিস্থিতি খা;রাপ করার চেষ্টা করছে। সরকারকে আমরা এই বার্তাটিই দিতে চেয়েছি।’ এদিকে আ;ইনশৃ;ঙ্খলা বা’হি’নীর একাধিক সূত্রও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নাম প্রকাশ করে কেউ বক্তব্য দিতে রা;জি হননি।

কারণ হিসেবে একজন ঊর্ধ্বতন গো’য়েন্দা কর্মকর্তা জানান, বৈ’ঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের বি;রু;দ্ধেও একাধিক মা;ম’লা রয়েছে। একদিকে গ্রে’ফ’তার অভি;যান, আরেকদিকে এজাহারভুক্ত আ;সা;মিদের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে সরাসরি বক্তব্য দেয়াটা সমী’চীন হবে না বলে মন্ত’ব্য করেন ওই কর্মকর্তা। যোগাযোগ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদু’জ্জামান খান কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তাদের সমঝোতার প্রস্তা;বের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমাদের কাছে কেউ এ ধরনের প্র’স্তাব নিয়েও আসেনি। হেফাজতে ইসলামের মধ্যে যারা স;;হিং;সতার সঙ্গে জ;ড়িত তাদের বি;রু;দ্ধে যেভাবে আ;ইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, তা অব্যা;হত থাকবে। আ;ইন ভ;ঙ্গকারীদের সঙ্গে সমঝোতার কোনও প্রশ্নই আসে না।’

২০১০ সালে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত হেফাজতে ইসলাম প্রথম আলোচনায় আসে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষানীতি ও নারী উন্নয়ন নীতির বি;রো;ধিতা করে। ২০১৩ সালে হে’ফাজ’ত ব্ল’গার’দের বি;রু;দ্ধে আ’ন্দো;লনের পাশাপাশি ১৩ দ’ফা দা’বি জানায়। ওই বছরের ৫ মে শাপলা চ’ত্ব’রে সমাবে’শের নামে ব্যা;পক তা;ণ্ড;ব চালা’য় হেফা;জতে ইসলামের নেতাকর্মীরা। এরপর ধীরে ধীরে হেফাজতে ইসলামের ওপর নিয়’ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা’ করে সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হেফাজতের আমির আহমদ শফীর মৃ;;ত্যুর পর সংগঠনটির ওপর সরকারের যে নিয়ন্ত্রণ ছিল তা ন;;ষ্ট হয়ে যায়। হেফাজতের নতুন আমির মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীসহ শীর্ষ নেতারা কথায় কথায় সরকারের বি;রো;ধি;তা করতে থাকে।

গত বছরের নভেম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ভা’স্কর্য স্থা’পনে বি;রো;ধিতা ক’রা’র পর এই বি’ষয়’টি সামনে আসে। এরপর এ বছরের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ৫০ বছর ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের বি;রো;ধিতা করে আন্দো;লনের নামে তা;ণ্ড;ব চা;লা;য় হেফাজতে ইসলাম। তখনও হেফাজতের শীর্ষ নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ না করেই একাধিক মা’মলা’ দা’য়ে”র করা হয়। তবে ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে হেফাজতের প্র;ভা;বশা;লী নেতা মাওলানা মামুনুল হক এক না’রী সঙ্গীসহ আ’টক’ হলে ন;ড়েচ;ড়ে বসে সর’কা’র। হে’ফা’জতের একজন মধ্যম সা’রির নে’তা এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘মামুনুল হকের বিষয়টিতে সরকার সুযোগ নিয়েছে। তার ব্যক্তিগত বিষয়টিকে সামনে এনে হেফাজতকে কো;ণঠা;সা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

কিন্তু আমরা কখনোই সরকার উৎ;খাতের চে;ষ্টা করিনি। আমাদের সাংগঠনিক মতাদ’র্শ থেকে আমরা আন্দো;লন করে আসছিলাম।’ ওই হে’ফা’জত নেতা’র ভা’ষ্য, ‘এখন যেভাবে হেফাজ’তের বি;রু;দ্ধে আই;নশৃঙ্খ;লা বা’হিনীর সদ’স্যরা গ্রে’ফতা’রি অভি;যান শুরু হয়েছে, তাতে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা না করে উপায় নেই। এ জন্য শীর্ষ নেতারা সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। হে’ফাজত আপা;তত আর কোনও কর্ম’সূচি দেবে না—এই শর্তে সম’ঝো’তার চেষ্টা চলছে।’ কিন্তু আই;নশৃঙ্খ;লা বা’হি’নীর কর্মকর্তারা বলছেন, হেফাজ’তকে আর ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। তারা আগে তো অনেক তা;ণ্ড;ব চালি’য়েছেই, সম্প্রতি রাজধানী ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে যা করেছে তাতে তাদের বি;রু;দ্ধে অ্যা’ক’শনে যাওয়ার কোনও বিকল্প নেই।

স;হিং;;স;তার ঘটনায় জ;ড়িত প্রত্যেকের বি;রু;দ্ধে আ;ইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকা মেট্রো’পলিটন পু’লিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাতেই হে”’ মধ্যম ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে ৯ জনকে গ্রে’ফ”তা’র করা হয়েছে। সর্বশেষ রবিবার (১৮ এপ্রিল) মোহাম্মদ’পু’রের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে গ্রে’ফ’তা’র করা হয় হেফাজতের প্র;ভাবশা;লী নেতা মাওলানা মামুনুল হককে। সোমবার তাকে ৭ দিনের রি;মা;ন্ডে নিয়ে জি;জ্ঞাসাবাদ করছে গো’য়ে’ন্দা পু’লিশ।

এর আগে হে’ফাজ’তের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহান’গরীর সভাপতি জু’নায়েদ আল হাবিবসহ আরও কয়েকজনকে গ্রে”ফ’তা’র’ করা হয়। গো’য়েন্দা’ কর্ম’কর্তা’রা বল’ছেন, ইতোম’ধ্যে তারা হে’ফা’জতে’র ৩০ জন সক্রিয় নেতার একটি তালি’কা তৈরি করেছেন। এর’ম’ধ্যে কয়েক’জনকে ই’তোমধ্যে গ্রে’ফ”তা’র করা হয়েছে। বাকিদের গো’য়ে’ন্দা নজ;রদা’রি করা হচ্ছে। তাদের প্রত্যে’কের বি;রু;দ্ধে রা’জ’ধানী ঢাকা ও ঢা’কার বাইরে একাধিক মা’ম’লা র’য়েছে। মা’ম’লার এ’জা’হার’ভুক্ত আ;সা;মিদের গ্রে”তা”রের চে’ষ্টা ক’রা হচ্ছে।