বাংলা-ইংরেজিতে কথা বলা রোবট তৈরি করলেন ক্ষুদে বিজ্ঞানী

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বাংলা ও ইংরেজিতে কথা বলা রোবট তৈরি করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন ক্ষুদে বিজ্ঞানী সুজন পাল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে তৈরি করায় রোবটটির নাম রাখা হয়েছে ‘বঙ্গ’।
ক্ষুদে বিজ্ঞানী সুজন পাল ওই উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের জয়দেব পালের ছেলে। তিনি সরকারি গৌরনদী কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।

সুজন জানান, তার রোবট বাংলা ও ইংরেজিসহ নানা ভাষায় কথা বলতে পারে। বাড়ি ও অফিস-আদালত কিংবা যেকোনো প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগলে মুহূর্তেই খবর পৌঁছে দেবে নিকটস্থ ফায়ার সার্ভিসকে। এছাড়া গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ হলে বিশেষ সংকেতের মাধ্যমে সঙ্গে সঙ্গে তা জানিয়ে দেবে ঘরের লোকজনকে। এছড়া কোনো কিছু জিজ্ঞেস করলে নিজে থেকেই গুগলে সার্চ করে তা জানিয়ে দেবে এই রোবট।

তিনি আরো জানান, প্রয়োজনে রোবটটি কাজ করবে প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবেও। চিকিৎসক হিসেবে প্রাথমিক চিকিৎসাও দিতে পারবে। সেই সঙ্গে কৃষককে ফসলের রোগ বালাই মোকাবিলায় পরামর্শ দেবে এ রোবট। রোবটটি তৈরি করতে সময় লেগেছে চার মাস। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এটিকে আরো অত্যাধুনিকভাবে তৈরি করে মানুষের সেবায় কাজে লাগানো যাবে।

* আগুন লাগলে কিংবা গ্যাস লিকেজ হলে পাঠাবে বিশেষ সংকেত

* শিক্ষা-চিকিৎসা-কৃষি সমস্যায় দেবে সমাধান

* স্বেচ্ছায় গুগল সার্চ করে দেবে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রবল ইচ্ছাশক্তির কারণে দারিদ্রতাকে পেছনে ফেলে নিজের মেধা দিয়ে রোবট ‘বঙ্গ’কে তৈরি করেছেন সুজন পাল। তার পেছনে ছিল পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের উৎসাহ ও ভালোবাসা।

সুজন পালের কাকা গৌতম পাল জানান, বাবার দেয়া হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে এবং নিজে প্রাইভেট পড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে রোবটটি তৈরি করেছেন সুজন। রোবটটি দেখতে ও তার সঙ্গে কথা বলতে প্রতিদিনই বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে বিভিন্ন এলাকার মানুষ। ছেলের সাফল্যে খুশি সুজনের বাবা জয়দেব পাল ও মা সবিতা রানী পাল।

আগৈলঝাড়ার ইউএনও মো. আবুল হাশেম বলেন, রোবটটি আরো অত্যাধুনিক করতে সুজন পালকে সহযোগিতার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে।